Hidden Stories (বাংলা)

স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা: শর্তের বেড়াজালে কংগ্রেসকে বিঁধলেন অভিষেক, ইন্ডিয়া জোটে ফের সমন্বয়ের অভাব?

নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেস যে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা বলছে, সেই ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের ফাটল আবারও প্রকাশ্যে এল। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কংগ্রেসের প্রস্তাবে তৃণমূলের সই করতে আপত্তি নেই। তবে, তা হতে হবে তৃণমূলের বেঁধে দেওয়া শর্ত মেনে! অভিষেকের এই অনড় অবস্থান একদিকে যেমন নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের কৌশল, অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অভ্যন্তরে কংগ্রেসের ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধেও এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। অন্তত এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানান, তড়িঘড়ি অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবে না তৃণমূল। তাঁর প্রস্তাবিত রোডম্যাপ অনুযায়ী - ‘ইন্ডিয়া’ জোটভুক্ত সব দলকে নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিতে হবে। স্পিকারকে চিঠি লিখে তিনদিনের সময়সীমা দিতে হবে। চিঠিতে স্পষ্ট করতে হবে যে কংগ্রেসের ৮ জন সাংসদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। যদি তিনদিনের মধ্যে স্পিকার সদুত্তর না দেন, তবেই শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক।অভিষেকের মন্তব্য, "ভুল করলে তাঁকে (স্পিকারকে) সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। এটাই তো নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুক্তির আড়ালে অভিষেক আসলে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে বার্তা দিতে চেয়েছেন, বিরোধী রাজনীতি মানেই হঠকারিতা নয়।তৃণমূলের এই শর্তারোপের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। চলতি বাজেট অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেস দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে মরিয়া ছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব সেই বিষয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখাননি। ফলে, কংগ্রেস যখন স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চাইল, তখন পাল্টা শর্ত চাপিয়ে তৃণমূল বুঝিয়ে দিল—জোট মানে শুধু কংগ্রেসের ইচ্ছাপূরণ নয়।এই টানাপড়েনে বিরোধী শিবিরের দুই প্রধান শক্তিরই নেতিবাচক দিক উঠে আসছে। যেমন- স্পিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অনাস্থা আনার আগে শরিক দলগুলির সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করা কংগ্রেসের পুরনো সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে। রাহুল গান্ধীর দল কি এখনও আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্ব বুঝতে ভুল করছে? এই প্রশ্ন উঠছে।তাছাড়া, যখন বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন ছোটখাট বিষয়ে শর্ত চাপিয়ে তৃণমূল আসলে বিরোধী ঐক্যে সংশয় তৈরি করছে। ‘ইমপিচমেন্ট’ প্রস্তাবে সাড়া না পাওয়ায় ‘অনাস্থা’য় শর্ত চাপানোকে অনেকে রাজনৈতিক 'বদলা' হিসাবেও দেখছেন।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কংগ্রেস যেভাবে বলবে, তৃণমূল সেভাবে চলবে না। এই স্বাধীন অবস্থান তৃণমূলের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ালেও, সাধারণ মানুষের কাছে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংহতি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। মঙ্গলবারই তড়িঘড়ি প্রস্তাব আনার কংগ্রেসী জেদ এবং তৃণমূলের তিনদিনের সময়সীমার এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত ওম বিড়লার চেয়ারকে সুরক্ষিত করে দেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।

স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা: শর্তের বেড়াজালে কংগ্রেসকে বিঁধলেন অভিষেক, ইন্ডিয়া জোটে ফের সমন্বয়ের অভাব?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার