ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই কার্যকর আদর্শ আচরণবিধি: কোন কোন নিয়মে বাঁধা পড়ল রাজনৈতিক দলগুলি?
রবিবার পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলপ্রকাশ ৪ মে। তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার মুহূর্ত থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে জারি হয়ে গিয়েছে 'আদর্শ আচরণবিধি' বা 'Model Code of Conduct'। নির্বাচনের শেষ প্রক্রিয়া পর্যন্ত এই বিধি বলবৎ থাকবে, যা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন।[TECHTARANGA-POST:7345]কী এই আদর্শ আচরণবিধি?এটি হলো নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত একগুচ্ছ নিয়মাবলি, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এই বিধি কার্যকর থাকাকালীন শাসক দল থেকে বিরোধী—সব পক্ষকেই সমান নিয়ম মেনে চলতে হয়।[TECHTARANGA-POST:7337]রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য জরুরি নিয়মাবলী:প্রচার ও সমালোচনা: ধর্ম, জাতি বা কোনো সাম্প্রদায়িক আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক সমালোচনা হতে হবে শুধুমাত্র বিরোধী দলের কর্মসূচি বা কাজের ভিত্তিতে; ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না।[TECHTARANGA-POST:7336]সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার: ভোটের সময় সরকার কোনো নতুন প্রকল্প, আর্থিক অনুদান বা অস্থায়ী নিয়োগের ঘোষণা করতে পারবে না। সরকারি যানবাহন, বাংলো বা তহবিল কোনোভাবেই শাসক দলের প্রচারের কাজে লাগানো যাবে না।সভা ও মিছিল: যেকোনো সভা বা মিছিলের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের আগাম অনুমতি নিতে হবে। লাউডস্পিকার ব্যবহার বা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুলিশের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। অন্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বা বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন বা অনুমতি ছাড়া দেওয়াল লিখন করা যাবে না।ভোটকেন্দ্রের নিয়ম: ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের সংলগ্ন এলাকায় কোনো রাজনৈতিক প্রতীক রাখা বা অতিরিক্ত ভিড় করা নিষিদ্ধ। ভোটারদের কোনোভাবেই ভয় দেখানো বা আর্থিক প্রলোভন দেওয়া যাবে না।[TECHTARANGA-POST:7336]ইস্তাহার: নির্বাচনী ইস্তাহারে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া যাবে না যা সংবিধানবিরোধী বা অবাস্তব। এছাড়া ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট সময় আগে ইস্তাহার প্রকাশেও বিধিনিষেধ থাকে।[TECHTARANGA-POST:7314]নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী যদি এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের স্বার্থে এই নিয়মাবলী কঠোরভাবে পালন করাই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।