ভারত মহাসাগরে চিনের দাদাগিরিতে বড় ধাক্কা নৌসেনার
কলকাতা: ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক দাপটের সামনে শক্ত জবাব দিতে চলেছে ভারত। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতীয় নৌবহরে যুক্ত হতে পারে আরও একটি পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ—‘আরিধমান’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাবমেরিন কমিশনিং হলে ভারত মহাসাগরে কৌশলগত ভারসাম্যে বড়সড় পরিবর্তন আসবে।নৌবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশাখাপত্তনমের জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে তৈরি এই অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি বর্তমানে সমুদ্র পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব পরীক্ষা সফল হলে আগামী এপ্রিল–মে মাসের মধ্যেই এটি জলে নামতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ঠিক এক বছর আগেই এই সময় ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালিত হয়েছিল। তার এক বছরের মাথায় নৌবাহিনী হাতে পেতে চলেছে এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধাস্ত্র।[TECHTARANGA-POST:6641]‘আরিধমান’ পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN)। এতে রয়েছে ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কে-১৫ এবং ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার কে-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ক্ষমতা। এই দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল ব্যবস্থার ফলে ভারতের ‘নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে মত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের।বর্তমানে ভারতের হাতে ইতিমধ্যেই দুটি পরমাণু শক্তিধর সাবমেরিন রয়েছে—‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত’। ‘আরিধমান’ যুক্ত হলে এই ত্রয়ী ভারতীয় নৌবাহিনীর কৌশলগত শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিশেষ করে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিন যেভাবে সাবমেরিন ও নৌঘাঁটির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে, তার মোকাবিলায় এটি হবে এক শক্তিশালী বার্তা।আধুনিক যুদ্ধনীতিতে পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজের গুরুত্ব অপরিসীম। স্থলভাগের পারমাণবিক ঘাঁটি শত্রুপক্ষের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই সাবমেরিনগুলি কার্যত অক্ষত থাকে। ফলে প্রতিশোধমূলক হামলার সক্ষমতা বজায় থাকে—যাকে বলা হয় ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’।[TECHTARANGA-POST:6642]নৌবাহিনী সূত্রের দাবি, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গরমের মরশুমের শুরুতেই ‘আরিধমান’ ভারত মহাসাগরের গভীরে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে মোতায়েন থাকবে। এতে একদিকে যেমন দেশের জলসীমার নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে, তেমনই নৌসেনার আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও বহুগুণ বাড়বে।