পুজোর আগেই মধ্যবিত্তের বিরাট স্বস্তি, দর বেঁধে দিয়ে চিনির বাজারের রাশ হাতে নিল রাজ্য!
কলকাতা: উৎসবের মরশুমের শুরুতেই রাজ্যের মধ্যবিত্তের জন্য বড়সর স্বস্তির খবর নিয়ে এল কৃষি বিপণন দপ্তর। গত কয়েক মাস ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা চিনির দামে এবার লাগাম টানতে সরাসরি ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি চিনির সর্বোচ্চ দর ৫০ টাকা নির্দিষ্ট করে দিল রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে আগামী সাত দিনের মধ্যেই খুচরো বাজারে চিনির দাম কমে কেজি প্রতি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে নেমে আসবে। শুধু তা-ই নয়, সরকারি ‘সুফল বাংলা’ স্টলেও মিলবে কেজি দরে সুলভ চিনি, যা পুজোর কেনাকাটার মুখে সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় রিলিফ দিতে চলেছে।প্রতিটি বাঙালির হেঁশেলে এবং পুজোর মিষ্টান্ন তৈরিতে চিনির গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ বিগত কিছুদিন ধরে খোলা বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি প্রায় ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজ্য জুড়ে এই দরবৃদ্ধি ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি আধিকারিকরা সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। মঙ্গলবার রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী জানান, আগামী ৩ মাস অর্থাৎ পুরো উৎসবের মরশুম জুড়ে এই নির্ধারিত পাইকারি দাম অপরিবর্তিত রাখা হবে। ব্যবসায়ীদের যাতে কোনও লজিস্টিক সমস্যা না হয়, তার জন্য ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির গোডাউনে চিনি খালাসের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।চিনির পাশাপাশি রান্নার অন্য মূল উপাদান পিঁয়াজের দামও নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। বর্তমানে বাজারে পিঁয়াজ বিকোচ্ছে কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। তাই কৃত্রিম অভাব রোধ করতে এ বার রাজ্য জুড়ে বাজারে বাজারে হানা দেবে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে রাজ্যে ১০টি নতুন কোল্ড স্টোরেজ খোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে চিনির মিষ্টতা আর পিঁয়াজের ঝাল নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই কড়া নজরদারি উৎসবের মুখে কোটি কোটি মানুষের মুখের হাসি ফেরাতে চলেছে।