কলকাতা: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে তিলোত্তমা কলকাতা। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাজির থাকছেন শহরে, যা ঘিরে দেশ তো বটেই, আন্তর্জাতিক মহলের নজরও এখন বাংলার দিকে। এই হাইভোল্টেজ মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, মঙ্গলবার নবান্নে বসছে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সোমবার সন্ধ্যায় শহরে পা রেখেছেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ সচিব রাজেশ কোটেচা এবং মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছেছে আয়ুষ মন্ত্রক ও মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগা-র একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। রাজ্যের আয়ুর্বেদ অধিকর্তা ডা. দেবাশিস ঘোষের তত্ত্বাবধানে এই টিমটি ইতিমধ্যেই রেড রোড, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আয়ুষ মন্ত্রকের অন্যতম অধিকর্তা অমরেন্দ্র সিং এবং মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগা-র অধিকর্তা ড. কাশীনাথ সমাগান্ধী সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।[TECHTARANGA-POST:9680]বিশ্বজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হতে চলা এই যোগ দিবস প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব জানিয়েছেন যে, মূল অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকবেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীর ইঙ্গিত, এই যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে এ রাজ্যে নতুন সরকারের হাত ধরে আয়ুষ মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। যোগের নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির দরজা খুলে যাওয়ার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বাংলায়। উল্লেখ্য, দিন আটেক আগেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় বড় আকারে যোগ দিবস পালনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এদিনের ঘোষণায় কার্যত তাতেই সিলমোহর পড়ল। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সেদিন শহরে একাধিক দেশের ভিভিআইপি-রা উপস্থিত থাকবেন, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে পিএমও (PMO) বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফ থেকেও দফায় দফায় নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9679]মহারাষ্ট্রের লোনাভালার কৈবল্যধামে ‘ইন্ডিয়ান যোগা অ্যাসোসিয়েশন’-এর বার্ষিক সভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, এবারের যোগ দিবসের মূল থিম রাখা হয়েছে ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’। ভারতে সিনিয়র সিটিজেন-কেন্দ্রিক অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী দিনে আরও বাড়বে। বয়স্ক নাগরিকদের সুস্থ জীবন উপহার দেওয়াই এবারের উদযাপনের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে যোগকে যেভাবে বিজ্ঞানের আলোয় তুলে ধরা হচ্ছে, তার খতিয়ান দিয়ে মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালে যোগ নিয়ে যেখানে মাত্র ১৮৩টি সায়েন্টিফিক পেপার প্রকাশিত হয়েছিল, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০৭-এ। সাধারণ মানুষের দৈনিক জীবনে যোগকে জনপ্রিয় করতে ‘যোগ ৩৬৫’ ও ‘যোগ সমাবেশ’ নামে বিশেষ প্রকল্প এবং নন-কমিউনিকেবল রোগের জন্য ১০টি আলাদা যোগ-প্রোটোকল তৈরি করেছে আয়ুষ মন্ত্রক। এখন কলকাতার বুক থেকে বিশ্বমঞ্চে যোগের কী বার্তা যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার