তেহরান ও ইসলামাবাদ: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে কি তবে এবার শান্তির বাতাস বইতে শুরু করল? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার পাকিস্তানের ‘দৌত্য’ মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিল ইরানও। বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, আমেরিকার পাঠানো শান্তি প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমেই তেহরানে পৌঁছেছে। তবে, আলোচনার টেবিল হিসাবে কেবল পাকিস্তান নয়, তুরস্কের নামও বিকল্প হিসাবে জিইয়ে রাখল ইরান।[TECHTARANGA-POST:7585]এত দিন সরকারিভাবে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও, পর্দার আড়ালে যে বরফ গলতে শুরু করেছে, তা এখন কিছুটা অন্তত স্পষ্ট। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দুই দেশকে মুখোমুখি বসানোর যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তাতে ট্রাম্পের পর এবার তেহরানও ইতিবাচক সঙ্কেত দিয়েছে। তবে, যেকোনও দেশের একাধিপত্য এড়াতে ইরানের পক্ষ থেকে তুরস্ককেও এই প্রক্রিয়ায় শামিল রাখার কথা বলে হয়েছে। তুরস্কের শাসকদলের শীর্ষ নেতা হারুন আর্মাগান জানিয়েছেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন।যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের সুর ছিল চরম আক্রমণাত্মক। ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ এবং তেহরানের মসনদে কারা বসবেন তা নাকি আমেরিকাই ঠিক করে দেবে - এমন দাবিও করেছিলেন তিনি। কিন্তু, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে সুর নরম করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, “ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।” ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের দেওয়া ‘১৫ দফা’র শান্তি প্রস্তাবের শর্ত নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে ইরানি শিবিরে।[TECHTARANGA-POST:7558]আলোচনার জল্পনা বাড়লেও ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘায়েই এখনও কিছুটা রক্ষণাত্মক। তাঁর মতে, “আমেরিকার কূটনীতির উপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় না।” অন্যদিকে, এই সমঝোতা নিয়ে ইজরায়েল ঠিক কী ভাবছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা পরিষদকে আমেরিকার প্রস্তাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তেল আভিভ এই আলোচনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কিনা, সেটাও একটা বিরাট প্রশ্ন।আমেরিকার পর ইরানও যখন পাকিস্তানকে ‘দূত’ হিসাবে মেনে নিচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের দর একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল। তুরস্ক ও পাকিস্তান - এই দুই মুসলিম প্রধান দেশ যদি সফলভাবে মধ্যস্থতা করতে পারে, তবে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রভাব কিছুটা হলেও ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে ইরান-ভারত সম্পর্কের মাঝে পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সক্রিয়তা দিল্লির সাউথ ব্লকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার