১ মাস পর জেলমুক্ত জয়প্রকাশ! ফ্ল্যাট দখল মামলায় হাই কোর্টে বড়সড় স্বস্তি তৃণমূল নেতার, কী কী শর্ত দিল আদালত?
কলকাতা: দীর্ঘ এক মাসের বন্দিজীবন কাটিয়ে অবশেষে জেলের বাইরে পা রাখতে চলেছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। বহুল চর্চিত একটি ফ্ল্যাট দখলের মামলায় বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে।[TECHTARANGA-POST:10466] এর আগে এই মামলার শুনানি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে হওয়ার কথা থাকলেও, গত ২৯ জুন তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে স্থানান্তরিত হলে, তিনিই বুধবার তৃণমূল নেতার এই জামিনের নির্দেশ দেন। তবে জামিন পেলেও আদালতের তরফ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদারের ওপর বেশ কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10480]হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে জামিন পেলেও আইনি প্রক্রিয়া থেকে এখনই সম্পূর্ণ রেহাই পাচ্ছেন না তৃণমূল নেতা। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যে ফুলবাগান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট দখলের মূল অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেই ফুলবাগান থানা এলাকায় কোনোভাবেই প্রবেশ করতে পারবেন না জয়প্রকাশ মজুমদার। এর পাশাপাশি তদন্তকারী অফিসারদের ডাকলেই তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ে থানায় হাজিরা দিতে হবে এবং পুলিশের তদন্তে সবরকমভাবে সহযোগিতা করতে হবে। আইনি জটিলতা ও দীর্ঘ নাটকের পর অবশেষে এই জামিন মেলায় স্বস্তিতে তাঁর পরিবার ও অনুগামীরা।অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন জয়প্রকাশ!উল্লেখ্য, ২০১২ সালে কলকাতার ফুলবাগান এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ২০১৫ সালে সেই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি ফ্ল্যাটটি ছাড়েননি এবং নতুন করে কোনো চুক্তিও করেননি। ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা মালকিন ও তাঁর কন্যার অভিযোগ ছিল, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বেআইনিভাবে ওই ফ্ল্যাটটি দখল করে রেখেছিলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10479] বার বার থানায় জানিয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই গত ৩ জুন পরিস্থিতি বদলে যায়। ফ্ল্যাটের সামনে ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ দেখালে ধস্তাধস্তির জেরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এমনকি থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিমও ছুঁড়েছিল। পরবর্তীতে বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি, হুমকি ও জবরদখলের ধারায় মামলা রুজু হলে ১ মাস হাজতবাস করতে হয় তাঁকে।