বাংলার হোটেলে বসেই দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণা! পুলিশের জালে জামতাড়া চক্রের ৪ পাণ্ডা
দুর্গাপুর: বিলাসবহুল হোটেলের বন্ধ দরজার আড়ালে তৈরি হয়েছিল আস্ত এক ‘সাইবার কন্ট্রোল রুম’। সেখান থেকেই পাতা হচ্ছিল নিঃশব্দ ডিজিটাল ফাঁদ, আর নিমেষের মধ্যে খালি হয়ে যাচ্ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত জামতাড়া মডিউলের ধাঁচে এবার বাংলার বুকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াত চক্র। তবে শেষরক্ষা হলো না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন সাধুডাঙা এলাকার একটি হোটেলে গভীর রাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই কুখ্যাত চক্রের চার মাস্টারমাইন্ডকে হাতেনাতে পাকড়াও করল কোকওভেন থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত চারজনের নাম গণেশ সদ্দার, সচিন দাস, জিতেন্দ্র কুমার দাস এবং সুরেন্দ্র দাস। এরা প্রত্যেকেই ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মধুপুরের বাসিন্দা। ধৃতদের হোটেলের ঘর থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে একাধিক আধুনিক ল্যাপটপ, প্রচুর দামি মোবাইল ফোন, স্তূপীকৃত এটিএম কার্ড এবং সাইবার প্রতারণায় ব্যবহৃত অসংখ্য সন্দেহজনক ডিজিটাল নথি ও ডায়েরি। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, হোটেলের ঘরে বসেই বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তের মানুষকে ফোন করে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার কারবার চালাচ্ছিল এই জামতাড়া গ্যাং। পুলিশের নজর এড়াতে তারা কোনো নির্দিষ্ট হোটেলে বেশিদিন থাকত না; ক্রমাগত হোটেল বদলে গা-ঢাকা দিয়ে চলত এই চক্রের অন্ধকার কারবার।আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হোটেলের রুমটিকে কার্যত সাইবার ক্রাইমের অলিখিত হেডকোয়ার্টার বানিয়ে ফেলেছিল। কমিশনারেটের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ ও ফোনগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে এবং ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে পুরো গ্যাংয়ের মূল শেকড় খুঁজে বের করা হবে। দুর্গাপুরের অন্যান্য হোটেলেও এই ধরনের কোনো জালিয়াত চক্র ডেরা বেঁধেছে কিনা, তা জানতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:12418]হিডেন স্টোরিজ নিউজ