Jamui Incident: জামুই কাণ্ডে পুলিশের ধুন্ধুমার অ্যাকশন! ধাওয়া করে মূল অভিযুক্তকে এনকাউন্টার, তোলপাড় বিহার
জামুই: বিহারের জামুইয়ে কোচিং ফেরত কিশোরীর ওপর নৃশংস শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে কড়া অ্যাকশনে নামল বিহার পুলিশ। ঘটনার মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে এনকাউন্টার করে হাঁটুতে গুলি চালাল পুলিশ। মারাত্মক জখম অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইসঙ্গে পালাবার চেষ্টা করায় হরেরাম যাদব নামে অপর এক অভিযুক্তের ওপরও গুলি চালায় পুলিশ। বিহার পুলিশের এডিজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) সুহিনা অনুপম নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত অভিযুক্তদেরই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়। জামুইয়ের একটি স্থানীয় স্কুলের দুই পড়ুয়া কোচিং শেষে স্কুটারে করে মাদওয়া পাহাড় চত্বরে বেড়াতে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে আচমকাই তাদের পথ আটকে দাঁড়ায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, জোর করে স্কুটার থামিয়ে তারা কিশোরী ও তার সহপাঠীকে ঘেরাও করে চরম শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। অশ্রাব্য গালিগালাজ, নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসা করার নামে শালীনতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে অশালীন স্পর্শ করা হয় কিশোরীকে। এক অপরাধী কিশোরীকে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার অন্য প্রান্তে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে কিশোরীর সহপাঠী বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এই সমস্ত ভয়াবহ তাণ্ডবের দৃশ্য ভিডিও করে নেটাগরিকদের বিকৃত আনন্দের জন্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সমগ্র দেশজুড়ে চরম তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় ওঠে। জাতীয় রাজনীতিতে প্রশ্ন ওঠে বিহারের নারী নিরাপত্তা ও ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, ভিডিওটি দেখে তিনি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। নীতি পুলিশির নামে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপত্তা ছিনিয়ে নিয়েছে, তাদের চরম শাস্তি পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের কাছে দেশের ব্যর্থতার জন্য ক্ষমাও চান।চারিদিক থেকে চাপ ও সমালোচনার ঝড় উঠতেই তড়িঘড়ি অভিযানে নামে জামুই থানার পুলিশ। মঙ্গলবার মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদবকে গ্রেফতার করতে গেলে সে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। আত্মরক্ষার্থে ও অপরাধীকে রুখতে বাধ্য হয়েই গুলি চালায় পুলিশ। গুলি সোজা গিয়ে লাগে নন্দনের পায়ে। একে একে বাকি সমস্ত অভিযুক্তকে পুলিশি জালে বন্দি করা হয়েছে। বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:12854]