দোরগোড়ায় জন্মাষ্টমী। ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব। এ বছর ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পড়েছে জন্মাষ্টমী। বহু বাড়িতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর আগে কয়েকটি বিশেষ জিনিস বাড়িতে আনলে শুভ শক্তি ও ইতিবাচকতার পরিবেশ তৈরি হয়। মনে করা হয়, কৃষ্ণভক্তির সঙ্গেও এই জিনিসগুলির যোগ রয়েছে।তাহলে জন্মাষ্টমীর আগে কোন কোন জিনিস বাড়িতে আনা যেতে পারে? দেখে নিন একঝলকে। ১. ময়ূরের পালকশ্রীকৃষ্ণের মুকুটের অন্যতম পরিচিত প্রতীক ময়ূরের পালক। তাই জন্মাষ্টমীর আগে বাড়িতে ময়ূরের পালক আনা শুভ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি নেতিবাচকতা সরিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে। জন্মাষ্টমীর দিন পুজোর সময় বালগোপালের কাছে ময়ূরের পালক রাখা যেতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্রের কিছু বিশ্বাসে রাহুর অশুভ প্রভাব কমাতেও এর ভূমিকার রয়েছে বলা হয়।২. কৃষ্ণের বাঁশিবাঁশি ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের কথা যেন অসম্পূর্ণ। তাই জন্মাষ্টমীর আগে একটি বাঁশি বাড়িতে এনে কৃষ্ণের সামনে রাখা যেতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বাঁশি পরিবারে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও শান্তির প্রতীক। কৃষ্ণের বাঁশিকে প্রেম, আকর্ষণ ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।৩. তুলসী গাছশ্রীকৃষ্ণের পুজোয় তুলসীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যে বাড়িতে এখনও তুলসী গাছ নেই, সেখানে জন্মাষ্টমীর আগে একটি তুলসী গাছ আনার রীতি রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তুলসী পবিত্রতা ও ইতিবাচকতার প্রতীক। বাড়ির পরিবেশ শুভ রাখতেও এর গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।৪. গরু-বাছুরের প্রতীককৃষ্ণের শৈশব, গোকুল ও গোচারনের সঙ্গে গরুর গভীর সম্পর্ক। ‘গোপাল’ ও ‘গোবিন্দ’ নামেও তিনি পরিচিত। তাই জন্মাষ্টমীর আগে গরু ও বাছুরের ছোট মূর্তি বা প্রতীক বাড়িতে আনা শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি সমৃদ্ধি, পারিবারিক মঙ্গল ও নিরাপত্তার প্রতীক। ৫. নাড়ুগোপালের মূর্তিঅনেক পরিবারেই নাড়ুগোপালের পুজো করা হয়। যাঁদের বাড়িতে এখনও নাড়ুগোপালের মূর্তি নেই, তাঁরা জন্মাষ্টমীর আগে তা আনতে পারেন। তাই নিয়ম মেনে যত্ন নেওয়ার সুযোগ থাকলেই মূর্তি বাড়িতে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। নতুন পোশাক, অলঙ্কার ও সাজসজ্জার সামগ্রী দিয়ে জন্মাষ্টমীর দিন তাঁকে সাজিয়ে পুজো করার চল রয়েছে।