Jhargram Incident: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে খরস্রোতা জলপ্রপাতে ঝাঁপ মায়ের! ২৪ ঘণ্টা পরেও খোঁজ নেই প্রীতির, প্রার্থনায় পরিবার
ঝাড়গ্রাম: চোখের সামনে ফুটফুটে সন্তানকে খরস্রোতা জলে পড়ে যেতে দেখে এক মুহূর্তও ভাবেননি মা। নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাঁপ দিয়েছিলেন জলে। বাবা ঝাঁপিয়ে পড়ে ছেলেকে বাঁচাতে পারলেও, স্রোতের টানে তলিয়ে গেলেন মা নিজেই। ঝাড়গ্রামের বিখ্যাত ঘাগরা জলপ্রপাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম হয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ পর্যটক প্রীতি দত্তের। রবিবার সকাল থেকেই পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল এলাকায় জোরকদমে উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।দুর্ঘটনার শিকার পরিবারটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাসিন্দা। রাজদীপ দত্ত ও প্রীতি দত্ত তাঁদের সাত বছরের একমাত্র সন্তান প্রিয়ঙ্কনকে নিয়ে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে শুক্রবার ঝাড়গ্রাম ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ৩৬ জনের ওই পর্যটক দলের রবিবারই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার জলপ্রপাতে আনন্দ মুহূর্তের মাঝেই নেমে আসে চরম বিপর্যয়। পাথরের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে থাকা ছোট্ট প্রিয়ঙ্কন আচমকা পা ফসকে পড়ে গেলে মা প্রীতি দেবী তৎক্ষণাৎ ঝাঁপ দেন। সন্তান ও স্ত্রীকে ভাসতে দেখে সাঁতার না জানা সত্ত্বেও বাবা রাজদীপও প্রপাতে লাফ দেন। রাজদীপ ছেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও প্রীতি দেবী তীব্র জলের তোড়ে ভেসে যান।উদ্ধারকারীদের অনুমান, পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতে তরুণী হয়তো অনেকটা দূরে ভেসে গিয়েছেন, অথবা প্রপাতের তলদেশের কোনও পাথরের খাঁজে আটকে রয়েছেন। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর রবিবার ভোর থেকেও স্পিডবোট ও ডুবুরি নামিয়ে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাবা ও ছেলে শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকলেও, প্রীতির কোনও খবর না পাওয়ায় তাঁরা প্রচণ্ড আতঙ্ক ও মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।অন্য দিকে, বারুইপুরের বাড়িতে অসুস্থ সত্তরোর্ধ্ব শাশুড়িকে এখনও এই দুর্ঘটনার খবর জানানো হয়নি। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ব্যাকুল হৃদয়ে অলৌকিক কিছু ঘটার অপেক্ষায় দিন গুনছেন, যাতে প্রীতি দেবী সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে আসতে পারেন। পূজোর মুখে বেড়াতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।[TECHTARANGA-POST:13328]