ভোট-প্রথমার বেলাশেষে রক্তাক্ত খয়রাশোল! ইভিএম বিভ্রাটে ধুন্ধুমার, ইটে মাথা ফাটল জওয়ানের , পিস্তল উঁচিয়ে নামল পুলিশ!
খয়রাশোল: রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের শেষবেলায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বীরভূমের খয়রাশোল। ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে ঘনীভূত উত্তেজনা থেকে শুরু হল খণ্ডযুদ্ধ। এখানকার বুধপুর গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথ চত্বরে চলে অবাধে ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর করা হয় একের পর এক গাড়ি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ক্রুদ্ধ জনতাকে সামলাতে পুলিশকে পকেট থেকে পিস্তল পর্যন্ত বের করতে হয়! ইটের আঘাতে জখম হন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেশ কয়েকজন জওয়ান।[TECHTARANGA-POST:8332]গণ্ডগোলের সূত্রপাত খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামের ৬৫ নম্বর বুথে। ভোটারদের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে বোতাম টিপলেও ভোট পড়ছে বিজেপি প্রার্থীর ঘরে! এই ‘কারচুপি’র খবর ছড়াতেই মুহূর্তের মধ্যে মেজাজ হারান স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা ভোটকর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ভোট বন্ধ করে দেয়। এরপর বিকেল গড়াতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।[TECHTARANGA-POST:8328]অবস্থা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের লক্ষ্য করে শুরু হয় মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বাহিনী। দু'পক্ষের সংঘর্ষে জখম হন বেশ কয়েকজন জওয়ান, একজনের মাথা ফেটে যায়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পিস্তল উঁচিয়ে পজিশন নিলে পিছু হটে উত্তেজিত জনতা। বর্তমানে গোটা এলাকা কার্যত পুলিশি দুর্গে পরিণত হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8329]শুধু খয়রাশোল নয়, প্রথম দফার অন্তিম লগ্নে অশান্তির খবর এসেছে আরও বেশ কিছু জায়গা থেকে। যেমন - মুরারই: গোরসা গ্রামে কংগ্রেস ও তৃণমূলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ভোট দিতে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। হামলায় মাথা ফাটে দুই কংগ্রেস কর্মীর।নওদা: হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘর্ষে দিনভর উত্তপ্ত ছিল এই এলাকা।অন্যান্য: কুমারগঞ্জ ও লাভপুরেও অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছে। পটাশপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর এবং আসানসোলে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তাপ বেড়েছে।[TECHTARANGA-POST:8327]সকাল থেকে ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ থাকলেও, বিকেলের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তাব্যবস্থার উপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।