Kolkata Municipal Corporation: সার্ভার ধসে স্তব্ধ পুরসভা! ব্যাঙ্ক তালিকার পুরনো হিসেবে মিলল বেতন, আটকে এরিয়ার ও বর্ধিত ডিএ
কলকাতা: পুজোর মুখেই চরম প্রশাসনিক সংকটের মুখে কলকাতা পুরসভা। টানা ২০ দিন ধরে সেন্ট্রাল সার্ভার বিকল হয়ে থাকায় পুরসভার স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সমস্ত নাগরিক পরিষেবা। তবে ভোগান্তি শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; সার্ভার বিপর্যয়ের প্রভাবে ‘ই-কেএমসি ২.০’ পোর্টাল পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পুরসভার হাজার হাজার স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী। মাসপয়লায় ঘুরেপথে পুরানো তালিকার ওপর নির্ভর করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মূল বেতন জমা হলেও, মেলেনি কোনো এরিয়ার। আর এই জটিলতার মাঝেই উৎসবের মরশুমে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেন্ট্রাল সার্ভার সচল না থাকায় আপটুডেট পে-স্কেল বা পে-শিট তৈরি করাই সম্ভব হয়নি। ফলে যে সমস্ত কর্মীদের পদোন্নতি বা প্রমোশন হওয়ার কারণে বেতন ও এরিয়ার বেড়েছিল, তাঁরা ন্যায্য পাওনা সত্ত্বেও একটি বাড়তি টাকাও পাননি। অন্যদিকে, নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরকর্মীদের বর্ধিত ২০ শতাংশ ডিএ এবং চলতি মাসের বেতন একযোগে মিটিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পোর্টাল সক্রিয় না হলে কীভাবে ৩৩ হাজার পুরকর্মীর পে-স্কেল হিসাব করে বর্ধিত ডিএ-র তালিকা তৈরি হবে? সেপ্টেম্বর মাসের মতো অক্টোবর মাসেও ব্যাঙ্কের পুরনো তালিকা মেনে মূল বেতন মেটানো হলেও ডিএ-র হিসাব পাঠানো কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে দিশেহারা পুরসভার পদস্থ কর্তারা।[TECHTARANGA-POST:13213]সার্ভার বিকল হওয়ার এই করুণ ধাক্কায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন আটকে গিয়েছে ১০০ দিনের কাজ করা অর্ধেকের বেশি কর্মীদের। একই কারণে বেতন পাননি পুরসভার সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশও। পরবর্তীতে শীর্ষ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে বিশেষ ‘ম্যানুয়াল স্যালারি শিট’ তৈরি করে কিছু কর্মীকে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলেও স্বাস্থ্য ও সাফাই বিভাগের ১০০ দিনের কর্মীরা এখনও সেই সুবিধা পাননি।সার্ভার সচল না হওয়ায় দিনভর পুরকর্মীদের মধ্যে পাওনা এরিয়ার এবং পুজোর মুখে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ হাতে পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। যদিও পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, জনকল্যাণ শিবিরের কাজের জন্য পৃথক সার্ভারের বন্দোবস্ত থাকায় সেখানে অনলাইন পরিষেবা ব্যাহত হবে না। তবে অভ্যন্তরীণ বেতন ব্যবস্থার এই বিরাট অচলাবস্থা কাটবে কীভাবে, এখন সেটাই দেখার।