Hidden Stories (বাংলা)

আর জি করের পুনরাবৃত্তি আর নয়! সরকারি হাসপাতালের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষায় লালবাজারের ‘মেগা অ্যাকশন প্ল্যান’

কলকাতা: প্রায় দু’বছর আগের সেই অভিশপ্ত রাত আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেড়ে নিয়েছিল এক তরুণী চিকিৎসকের প্রাণ। সেই হাড়হিম করা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা রাজ্য। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র ক্ষোভ। সেই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি আর কোনও দিন না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামল লালবাজার। কলকাতার সমস্ত সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে একগুচ্ছ কড়া ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করল পুলিশ সদর দফতর।[TECHTARANGA-POST:9300]রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতা এসেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা জোরদার করার উপর বিশেষ নজর দিয়েছে। দিনকয়েক আগেই এসএসকেএম হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে তাঁর হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পরই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা সমস্ত থানা ও হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি আলোচনা সারেন। আর, তার পরপরই লালবাজারের এই ‘মেগা গাইডলাইন’ সামনে এল।[TECHTARANGA-POST:9288]লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব থাকবে সেখানে মোতায়েন পুলিশকর্মীদের উপর। রোগী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী — সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে তাঁদেরই। হাসপাতালের মূল প্রবেশদ্বারে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং কড়া তল্লাশি চালাতে হবে। হাসপাতাল চত্বরে যাতে কোনওভাবেই কোনও দালালের প্রবেশ না ঘটে, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং সেগুলি ২৪ ঘণ্টা সচল রয়েছে কিনা, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া, রাতের বেলার নিরাপত্তায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাত বাড়লেই পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের হাসপাতাল চত্বরে নিয়মিত টহল বা পেট্রোলিং বাড়াতে হবে। হাসপাতালের প্রতিটি কোণ যাতে পর্যাপ্ত আলোয় আলোকিত থাকে, তার ব্যবস্থাও করতে হবে।[TECHTARANGA-POST:9296]হাসপাতালগুলিতে পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীরাও কাজ করেন। এবার থেকে কে কোন শিফটে ডিউটি করছেন, তার একটি নির্দিষ্ট ‘ডিউটি রোস্টার’ তৈরি রাখা বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, হাসপাতালে কর্মরত সমস্ত বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ বা ডেটাবেস কেন্দ্রীয়ভাবে লালবাজারে সংরক্ষণ করতে হবে।[TECHTARANGA-POST:9274]জরুরি বিভাগ (এমার্জেন্সি) এবং ওপিডি বা বহির্বিভাগের বাইরে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা বা ঝামেলার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিশেষ কৌশল নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার ব্লু-প্রিন্টও তৈরি রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল চত্বরে হেল্পলাইন নম্বরগুলি বড় বড় হরফে লিখে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনায় সাধারণ মানুষ বা চিকিৎসকেরা তৎক্ষণাৎ লালবাজার কন্ট্রোল রুম বা স্থানীয় থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।[TECHTARANGA-POST:9262]আর জি কর কাণ্ডের পর চিকিৎসকদের যে ক্ষোভ ও আন্দোলন তৈরি হয়েছিল, লালবাজারের এই অল-আউট অ্যাকশন প্ল্যান সেই ক্ষতে কিছুটা মলম লাগাতে পারবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আর জি করের পুনরাবৃত্তি আর নয়! সরকারি হাসপাতালের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষায় লালবাজারের ‘মেগা অ্যাকশন প্ল্যান’

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার