তিরুবনন্তপুরম: কেরালার সদ্য পালাবদলের পর রাজনীতিতে এবার এক চরম নাটকীয় মোড়। খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়নের ভাড়া বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকাল থেকেই কেরালার একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা, যার আঁচ গিয়ে পড়েছে খোদ বিজয়নের অন্দরেও। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) মামলার তদন্তেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই বিরাট পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। আর এই গোটা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যা বীণা থাইক্কান্দিয়িলের সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’।কেরালার মসনদ হাতছাড়া হওয়ার পর সম্প্রতি সরকারি বাসভবন ছেড়ে তিরুবনন্তপুরমের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন পিনারাই বিজয়ন। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি মিলল না। বুধবার অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুসারে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই ভাড়া বাড়ি-সহ কেরালা জুড়ে মোট ১০টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিজয়নের কন্যার আইটি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে অবৈধভাবে ১.৭২ কোটি টাকা দিয়েছিল সিএমআরএল নামের ওই সংস্থাটি। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিনিময়ে ওই আইটি সংস্থা সিএমআরএল-কে কোনও পরিষেবাই দেয়নি। বিনা সেবায় কোটি কোটি টাকার এই রহস্যময় লেনদেন ঘিরেই দানা বেঁধেছে চরম রহস্য।এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত রুখতে কম চেষ্টা করেনি সিএমআরএল। ইডির এই তদন্ত প্রক্রিয়া বাতিল করার আবেদন জানিয়ে তারা কেরালা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কেরালা হাইকোর্ট সেই পিটিশন খারিজ করে দেওয়ার ঠিক পরদিনই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ে ইডি। যদিও এই মামলায় সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবুও এই বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন থেকে সরাসরি বিজয়নের পরিবারই লাভবান হয়েছে বলে সরব হয়েছে রাজ্যের একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল। শুধু ইডি-ই নয়, এই চাঞ্চল্যকর মামলার জল কতদূর গড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সমান্তরালভাবে তদন্ত চালাচ্ছে ‘সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস’ (SFIO)-ও। এখন দেখার, ইডির এই ম্যারাথন তল্লাশির পর কেরালার রাজনীতির জল কোন দিকে মোড় নেয়।[TECHTARANGA-POST:9517]হিডেন স্টোরিজ নিউজ
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার