কলকাতা: পাটুলির বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের পর এবার জোড়াসাঁকো! চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পুরসভার বা ‘ছোট লালবাড়ি’র দ্বিতীয় হেভিওয়েট কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার ভোরে জোড়াসাঁকোর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই হাইভোল্টেজ গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই থমথমে জোড়াসাঁকো এলাকা। ভোর থেকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেললেও দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে দরজা খোলেননি এই তৃণমূল নেতা। শেষমেশ বাইরে থেকে তালা খোলার মিস্ত্রি ডেকে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। এদিকে বাইরে তখন কাউন্সিলরের অনুগামীদের বিক্ষোভের পাল্টা ডিম হাতে তৈরি ছিলেন বিজেপি সমর্থকেরা। যদিও কড়া নিরাপত্তায় জসিমউদ্দিনকে তড়িঘড়ি গাড়িতে তোলায় ডিম ছোড়ার সুযোগ মেলেনি।[TECHTARANGA-POST:9795]তদন্তকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে পকসো আইন (POCSO) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত তিন বছর আগে, যখন এলাকার এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় জসিমউদ্দিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের নাম জড়িয়েছিল। সেই নাবালিকা বর্তমানে কলেজছাত্রী। অভিযোগ, শনিবার ওই তরুণীকে পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নতুন করে হুমকি ও চরম হেনস্থা করা হয়। এর পরেই নির্যাতিতার পরিবার জোড়াসাঁকো থানায় ফের অভিযোগ দায়ের করে। বেআইনি কাজ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, শ্লীলতাহানি এবং সম্মতি ছাড়া নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ করার মতো গুরুতর অভিযোগে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হতেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:9792]রাজনৈতিক কেরিয়ারে জসিমউদ্দিন আগে সিপিএমে ছিলেন, পরে ২০১৫ সালের পুরভোটের আগে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে পরপর দু'বার জোড়াফুলের টিকিটে জেতেন। দলের অন্দরে তিনি জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিবেক গুপ্তর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, বিবেকের ছত্রছায়ায় থাকায় তিনি এলাকায় কাউকেই পরোয়া করতেন না, যা নিয়ে দলের একাংশেও তীব্র অসন্তোষ ছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিবেক গুপ্ত টিকিট না পাওয়ায় দলে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন জসিমউদ্দিন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে জনক্ষোভ বাড়ছিল। শনিবার রাতেই তোলাবাজির অভিযোগে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত গ্রেফতার হওয়ার পর, রবিবারের এই ঘটনায় কলকাতা পুরসভার গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটে। ক্ষমতার দাপট হারিয়ে প্রাক্তন বাম থেকে বর্তমান তৃণমূল নেতার ঠাঁই এখন শ্রীঘরে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার