শ্লীলতাহানি ও দাঙ্গার মারাত্মক অভিযোগ! সাতসকালে গ্রেফতার নৈহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান
নৈহাটি: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক অভিযোগে কোণঠাসা হতে শুরু করেছেন বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা। এবার সেই গ্রেফতারির তালিকায় যুক্ত হলো ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের আরও এক হেভিওয়েট নাম। আজ, বুধবার সাতসকালে নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করল নৈহাটি থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা ও মারপিট-সহ একাধিক মারাত্মক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই অশোক বাবুর ছেলেকেও অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার ছেলের পর খোদ প্রাক্তন পুরপ্রধান শ্রীঘরে যাওয়ায় নৈহাটি জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত একাধিক পুরসভায় কার্যত চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দলের ভরাডুবির পর থেকেই নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের অন্যান্য কাউন্সিলররা পুরদপ্তরে যাওয়া একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে সাধারণ নাগরিক পরিষেবা এবং পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পূর্ণ থমকে যায়। গত মে মাসে পরিস্থিতি সামাল দিতে অশোক চট্টোপাধ্যায় একদিনের জন্য পুরসভায় পা রাখলে তাঁকে তীব্র বিক্ষোভ ও হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায় এবং তিনি পুরসভা থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেই সময় পুরসভার কয়েকজন কর্মীকেও মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।এই চরম গোলমালের পরই অবশেষে পুরসভার শীর্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা। তবে পদ ছাড়লেও তাঁর পিছু ছাড়েনি আইনি জট। মূলত ২০২৫ সালে বিজেপি কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা, বাড়ি ভাঙচুর, এলাকা জুড়ে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা এবং এক মহিলার শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল এই প্রাক্তন পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে। সেই সমস্ত পুরনো মামলার তদন্তে নেমেই আজ সকালে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরই কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং মূল চক্রীদের হদিশ পেতে ধৃত অশোক চট্টোপাধ্যায়কে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।[TECHTARANGA-POST:10961]হিডেন স্টোরিজ নিউজ