বন্ধ কারখানায় বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মার! দেহ পাচারের মুখেই পুলিশের জালে দুই ঘাতক, হাড়হিম কাণ্ড লিলুয়ায়
হাওড়া: মোবাইল চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে তুলে এনে কারখানার ভেতর হাত-পা বেঁধে দফায় দফায় চরম মারধর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা সেই নারকীয় অত্যাচারের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক প্রৌঢ়। এরপর অপরাধ ঢাকতে রাতের অন্ধকারে লাশ গায়েব করার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। তবে শেষরক্ষা হল না; পুলিশের তৎপরতায় দেহ পাচারের আগেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হল দু’জনকে। হাওড়ার লিলুয়া থানা এলাকার এই হাড়হিম করা গণপিটুনির ঘটনায় গোটা চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম রাজকুমার চৌহান (৪৩)। তিনি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। মঙ্গলবার গভীর রাতে লিলুয়ার একটি কারখানার সামনে ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে মোবাইল চোর সন্দেহে ধরে ফেলে। অভিযোগ, কোনও কথা না শুনে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে কারখানার ভেতরে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। দীর্ঘক্ষণ ধরে দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতনের মুখে পড়ে একপর্যায়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন রাজকুমার। কারখানার মেঝেতেই প্রাণ হারান তিনি।মৃত্যু নিশ্চিত হতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে হামলাকারীরা। তড়িঘড়ি দেহটি গায়েব করে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া সিটি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী সেখানে পৌঁছাতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় মৃতদেহ পাচারের চেষ্টায় থাকা দুই অভিযুক্ত—শুভজিৎ প্যাটেল ও সুমিত পাসোয়ান। পুলিশ তৎক্ষণাৎ দেহটি উদ্ধার করে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ঘটনাটি নিছকই মোবাইল চুরির সন্দেহে উন্মত্ত গণপিটুনি, নাকি এর নেপথ্যে পুরনো কোনও আক্রোশ বা শত্রুতা লুকিয়ে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দল ডাকা হচ্ছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:12462]হিডেন স্টোরিজ নিউজ