Hidden Stories (বাংলা)

গ্রামের পথে গাড়ি থমকে যেতেই পড়ুয়াদের চড়! বিধায়কের হিটলারি আচরণে ক্ষুব্ধ করিমপুর

করিমপুর: জনসেবা করা, নাকি ক্ষমতার দম্ভ দেখানোই তৃণমূল নেতাদের আসল পরিচয়? নদিয়ার করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা একটি অভিযোগ অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিল। রাস্তা ছাড়তে দেরি হওয়ায় দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন পড়ুয়াকে সপাটে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। এক জনপ্রতিনিধির এহেন ‘বাহুবলী’ আচরণে ধিক্কার জানিয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় মুরুটিয়ার বালিয়াডাঙা এলাকায় টিউশনি পড়ে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল কয়েকজন পড়ুয়া। সেই সময় দলীয় কর্মসূচি সেরে ওই রাস্তা দিয়েই ফিরছিলেন বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়। অভিযোগ, রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় এবং সাইকেল সরানোর জায়গা না থাকায় বিধায়কের গাড়িটি সাময়িক আটকে পড়ে। অভিযোগ, এতেই মেজাজ হারান বিধায়ক। গাড়ি থেকে নেমে তিনি রক্ষীবাহিনীর তোয়াক্কা না করে সরাসরি পড়ুয়াদের উপর চড়াও হন এবং তাদের চড়-থাপ্পড় কষিয়ে দেন!স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে লুকিয়ে থাকা ‘ক্যাডার রাজ’ এবং দম্ভের সংস্কৃতিকেই প্রকট করেছে। সাধারণ মানুষের ভোটে জেতা একজন জনপ্রতিনিধি কী করে সামান্য কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রদের গায়ে হাত তোলার সাহস পান, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এই আচরণ স্রেফ ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং শাসকদলের ক্ষমতার আস্ফালনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই বর্বর আচরণের জন্য তৃণমূল দলকেও ধিক্কার জানাচ্ছেন অভিভাবকরা।পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বরাবরের মতো এখানেও ‘বিরোধীদের চক্রান্ত’ খুঁজে পেয়েছেন বিমলেন্দু সিংহ রায়। তিনি মারধরের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, “বিরোধীরা আমাকে হেয় করার চক্রান্ত করছে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এলাকার সাধারণ গ্রামবাসী কেন বিনা কারণে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন? কেন পুলিশকে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হল? এই প্রেক্ষাপটে নিজের দোষ ঢাকতে বিজেপিকে শিখণ্ডী করছেন অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক। আর বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য হল, নিজের অপরাধ আড়াল করতেই এখন রাজনীতির গল্প ফাঁদছেন বিধায়ক। তৃণমূলের মতো একটি দল, যারা সারাক্ষণ মানবিকতার কথা বলে, তাদের বিধায়ক শিশুদের মারধর করছেন—এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, বিধায়ককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা দামি গাড়িতে চড়ে জনগণেরই সন্তানদের উপর হাত তোলার এই স্বৈরাচারী মানসিকতা করিমপুরের মানুষ বরদাস্ত করবে না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও শাসকের প্রভাবে সত্য চাপা পড়বে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান আক্রান্ত পড়ুয়াদের পরিবার।

গ্রামের পথে গাড়ি থমকে যেতেই পড়ুয়াদের চড়! বিধায়কের হিটলারি আচরণে ক্ষুব্ধ করিমপুর

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার