মহেশতলার বাজি বাজারে এসটিএফ অভিযান! আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ফিরল হুঁশ?
মহেশতলা: আনন্দপুরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। শুক্রবার মহেশতলার পুটখালি বাজি পাড়ায় অতর্কিত অভিযান চালাল পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) এবং র্যাফ (RAF)। মূলত বাজি শিল্পে নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কিনা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতেই এই পরিদর্শন।শুক্রবার টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের হঠাৎ আসতে দেখে বাজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনি জটিলতার ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী তড়িঘড়ি দোকান বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে, প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রান করা নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।মহেশতলা থানার আইসি তাপস সিনহা, ফায়ার ওসি দেবজীবন মজুমদার এবং শিল্প উন্নয়ন আধিকারিক সুদেষ্ণা কুণ্ডুর নেতৃত্বে এই বিশেষ দল বাজি কারখানা ও গুদামগুলিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় খতিয়ে দেখেন। যেমন - ব্যবসায়ীদের কাছে বৈধ লাইসেন্স বা সরকারি অনুমতি রয়েছে কিনা। অনুমতি থাকলেও ঠিক কত পরিমাণ বাজি তৈরির মশলা মজুত রাখার এক্তিয়ার তাঁদের আছে। দোকান বা কারখানায় সঠিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা ‘ফায়ার এক্সটিংগুইশার’ মজুত রয়েছে কিনা।পরিদর্শন শেষে শিল্প উন্নয়ন আধিকারিক সুদেষ্ণা কুণ্ডু সাংবাদিকদের জানান, নুঙ্গি বাজি বাজারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ক্লাস্টার’ তৈরির জমি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত এই ক্লাস্টার তৈরি করে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের এক ছাতার তলায় আনা হবে, যাতে তাঁরা আরও সুরক্ষিত পরিবেশে ব্যবসা চালাতে পারেন। তিনি আরও বলেন, "অনেক ব্যবসায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও হার্ড কপি এখনও পাননি। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট দফতরে জানাব। তবে খুশির বিষয় হল, অধিকাংশ ব্যবসায়ীই অগ্নিনির্বাপণ বিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন।"এদিনের অভিযানে মহেশতলা থানার পুলিশ ছাড়াও সিইএসসি (CESC) এবং মহেশতলা পুরসভার আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে বিভিন্ন পর্যায়ে এই নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। ছোট-বড় সমস্ত কলকারখানা এবং গুদামে যেখানে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেই এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স অভিযান চালাবে।