Nandigram By Poll: নন্দীগ্রামে বিরাট তাণ্ডব! প্রচারের আগেই নাটকীয়ভাবে পুলিশের হাতে আটক বিশিষ্ট লেখক ও মতুয়া নেতা, সুর চড়িয়ে রণক্ষেত্র বিধান ভবন!
মেদিনীপুর: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঢাক বাজতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার পারদ চড়ল। হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন মণ্ডল যখন শেষবেলায় এলাকায় নেমে জোরকদমে প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক কাণ্ড ঘটে গেল পূর্ব মেদিনীপুরে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে চরম হেনস্থা ও আটক হলেন বিশিষ্ট লেখক-সমাজকর্মী মানস ফকির এবং মতুয়া অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা কংগ্রেস নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার সকালে চণ্ডীপুরের একটি গেস্ট হাউস থেকে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মানস ফকির ও সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস। মঙ্গলবার রাত থেকেই ওই হোটেলের বাইরে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সকালে দুই নেতা প্রচারের উদ্দেশ্যে বাইরে পা রাখতেই তাঁদের পথ আটকায় পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের এমন আকস্মিক পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা এবং চণ্ডীপুরের রাস্তায় শুরু হয় চরম বাকবিতণ্ডা। কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত কারণ ছাড়াই তাঁদের জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় নন্দীগ্রাম থানায়। গাড়িতে বসেই এক আবেগঘন ভিডিওবার্তায় লেখক মানস ফকির স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন যে, নন্দীগ্রামের মানুষ এবার হাত শিবিরের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বলেই শাসকদল ও পুলিশ আঁতাত করে তাঁদের আটকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।[TECHTARANGA-POST:13165]এই ঘটনার খবর কলকাতায় পৌঁছতেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের রাজ্য সদর দফতর বিধান ভবন থেকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানানো হয়। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অত্যন্ত জরুরি এক প্রেস বিবৃতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করার অপরাধেই এই গণতান্ত্রিক দেশে দুই সম্মানীয় ব্যক্তিত্বের ওপর এমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ চালানো হয়েছে। এই ধরনের অন্যায় ও বেআইনি আটক প্রমাণ করে দেয় যে, বাংলায় গণতন্ত্রের অস্তিত্ব আজ কতটা আশঙ্কাজনক এবং বিপজ্জনক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।ভোটের ঠিক মুখটিতে কোনো ধরনের নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়া এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুখকে পুলিশের আটকে রাখার ঘটনায় স্বভাবতই উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাসকদলের এই ধরনের দমনপীড়নের মনোভাব সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বড় আঘাত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।