ইরানে রহস্যের ঘনঘটা! কোথায় অন্তরাল হলেন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই? ক্ষমতাচ্যুতির জল্পনায় তুঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করলেও এক রহস্যময় নীরবতা ছেয়ে রয়েছে তেহরানের অন্দরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে— ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার কি জীবিত, নাকি তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে?ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর দাবি অনুযায়ী, মোজতবা বর্তমানে শাসনক্ষমতায় নেই। সূত্র বলছে, খামেনেই-পুত্রের বদলে এখন গোটা ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করছে সে দেশের শক্তিশালী বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)। মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের মতে, মোজতবা গোপন ডেরা থেকে বার্তা দিলেও তিনি যে প্রকৃত অর্থে দেশ শাসন করছেন, তার কোনও জোরালো প্রমাণ মেলেনি। এমনকি নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মৃত্যুর পর ইরানি প্রশাসনের রাশ এখন সম্পূর্ণভাবে সেনার হাতে বলেই মনে করা হচ্ছে।কুয়েতি সংবাদমাধ্যম ‘আল-জারিদা’ এক বিস্ফোরক তথ্যে দাবি করেছে যে, ইজরায়েলি হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত এবং বর্তমানে তিনি রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনেই-পুত্রের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোদ ভ্লাদিমির পুতিন উদ্বিগ্ন এবং তাঁরই ব্যক্তিগত প্রস্তাবে রুশ যুদ্ধবিমানে করে মোজতবাকে মস্কোতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেমলিন এই খবরকে সরাসরি অস্বীকার না করে রহস্য আরও বাড়িয়েছে। পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, "আমরা এই ধরনের প্রতিবেদন নিয়ে কোনও মন্তব্য করি না।"এদিকে ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডারকে খুঁজে বের করতে মরিয়া ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা ‘মোসাদ’ এবং আমেরিকার ‘সিআইএ’। একদিকে ক্ষমতাচ্যুতির গুঞ্জন আর অন্যদিকে মস্কোতে গোপন চিকিৎসার জল্পনা— সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতি এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। তেহরানের আসল নিয়ন্ত্রক কে, তা নিয়ে ধন্দ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।