Hidden Stories (বাংলা)

Bangladesh News: পদ্মাপাড়ে বিশাল পরিবর্তন! ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে সরছেন মুজিব, ঠাঁই পাচ্ছেন খালেদা-জিয়াউর

ঢাকা: শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাস চর্চায় বইতে শুরু করেছিল পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ভাস্কর্য এমনকী ঐতিহ্যবাহী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান মুছে ফেলার পর এবার পাঠ্যবইয়ের পাতাতেও পড়তে চলেছে তার সরাসরি কোপ। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পথে হেঁটে এবার বাংলাদেশের পাঠ্যসূচি থেকেই বাদ পড়তে চলেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কাণ্ডারি মুজিবর রহমান। আর তাঁর জায়গায় আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইতিহাস ও বাংলা বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম ও অবদান।বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মেগা পরিবর্তন ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান বইয়ে নতুন করে স্থান পাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের ইতিহাস, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের আলোচিত ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ঘটনা এবং ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা। শুধু ইতিহাসই নয়, নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা অত্যন্ত চর্চিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক বিশেষ প্রবন্ধটি।ইতিহাস ও সাহিত্যের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিজ্ঞানের পাঠ্যসূচিতেও যুগোপযোগী বড়সড় পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। বর্তমান পৃথিবীর চাহিদা মাথায় রেখে মাধ্যমিকের আইসিটি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বিষয়ক বিস্তারিত অধ্যায় যোগ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি নতুন গবেষণামূলক প্রবন্ধ যুক্ত হচ্ছে। প্রথম ধাপে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট চারটি নতুন বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে রঙিন চিত্র ও আধুনিক ইলাস্ট্রেশনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।এনসিটিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, শ্রেণিভিত্তিতে এই বিষয়বস্তুর দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বিষয়গুলো তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত থাকলেও নবম ও দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা বিস্তারিত ইতিহাস পড়ার সুযোগ পাবে। ২০২৮ সালে গোটা শিক্ষাক্রমে আরও বড় ধরনের পরিমার্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২০২৭ সাল থেকেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে যাবে নতুন চিন্তা ও রাজনীতির মোড়কে তৈরি এই নতুন পাঠ্যবই। স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ছেঁটে ফেলার এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ জুড়ে নতুন করে তোলপাড় ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।[TECHTARANGA-POST:12863]

Bangladesh News: পদ্মাপাড়ে বিশাল পরিবর্তন! ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে সরছেন মুজিব, ঠাঁই পাচ্ছেন খালেদা-জিয়াউর