মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ ট্রেন-পুলকার দুর্ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল। দুর্ঘটনার তদন্তে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে। মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের আড়াই লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রেল।[TECHTARANGA-POST:11020]শুক্রবার সকালে বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ এলাকায় লেভেল ক্রসিং খোলা থাকায় দ্রুতগতিতে আসা নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন একটি পুলকার এবং এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিন জন। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। দুর্ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের চরম উদাসীনতার কারণেই এই প্রাণহানি। ক্ষুব্ধ জনতা গেটম্যানকে কেবিনের ভিতরে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায়। পরে বহরমপুর থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, প্রাথমিক তদন্তে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। সিগন্যাল মেনেই নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি চলছিল। তাঁর কথায়, ইন্টারলকিং গেট পরিচালনায় নিযুক্ত গেটম্যান এবং সুপারভাইজারের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।এর পরই দুই রেলকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।[TECHTARANGA-POST:11017]এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট গেটম্যান প্রায়শই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ডিউটি করতেন। মদ বা গাঁজার নেশায় থাকায় অনেক সময় গেট বন্ধ করার পর খুলতে ভুলে যেতেন, ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হতো। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি স্থানীয়দের। ঘটনার পর মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার