নৈহাটিতে কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস! পুলিশের জালে ভিনরাজ্যের তিন যুবক
নৈহাটি: ঘর ভাড়া নিয়ে আস্ত এক প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছিল খাস নৈহাটিতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দিয়ে বড়সড় এক আর্থিক জালিয়াতি চক্রের হদিস পেল নৈহাটি থানার পুলিশ। সাধারণ মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ল্যাপটপ ও একাধিক মোবাইল ফোন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নৈহাটি পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কারিগরপাড়া এলাকার ইসাক সরদার রোডে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে বসবাস করছিল তিন যুবক। স্থানীয়দের সন্দেহ এড়াতে তারা নিজেদের কাজ নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখত। পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ঘরটিকেই জালিয়াতির কন্ট্রোল রুম হিসেবে ব্যবহার করা হত। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ।শনিবার গভীর রাতে ওই ডেরায় হানা দিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে ৪টি দামি স্মার্টফোন এবং ১টি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।ধৃত তিন অভিযুক্তের নাম: ১. শেখ জাভেদ আলি (৩৮) ২. আসিফ আলি (৩০) ৩. নেসার হুসেন (১৮)পুলিশ এদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর বিভিন্ন ধারায় (U/S-318(2), 318(4), 319(2), 316(2), 61(2)) মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের রবিবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। এদের সাথে ভিনরাজ্যের বড় কোনো গ্যাং-এর যোগাযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নৈহাটি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মানোয়ারা বেগম এই ঘটনায় স্তম্ভিত। তিনি জানান:"ওরা এখানে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত ঠিকই, কিন্তু আড়ালে যে এত বড় চক্র চলছে তা আমি বা এলাকার কেউ জানতাম না। পুলিশের অভিযানে এই প্রতারণার কথা জানতে পেরেছি। যারা সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা এভাবে আত্মসাৎ করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।" আপাতত ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের মূল শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে নৈহাটি থানার পুলিশ।