ভোটের মুখে কালীনাম! নবরাত্রির সপ্তমীতে ‘শ্যামাসঙ্গীত’ পোস্ট মোদীর
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: দুয়ারে কড়া নাড়ছে পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটের নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বের গলায় ততই চড়া হচ্ছে ‘বাঙালিয়ানা’র সুর! বুধবার, নবরাত্রির সপ্তমীতে সেই সুরেই নতুন মাত্রা যোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সকালে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে মা কালরাত্রির বন্দনা করার পাশাপাশি একটি জনপ্রিয় শ্যামাসঙ্গীত পোস্ট করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্রেফ ভক্তি নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলার তূণমুলস্তরের ভোটারদের মন জয়ের সুগভীর কৌশল।নবরাত্রির সপ্তম দিনে প্রধানমন্ত্রী মা কালরাত্রির রূপের বর্ণনার একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, “মা কালরাত্রিকে প্রণাম! তাঁর আশীর্বাদ সকলের জীবনে সাহস নিয়ে আসুক।” এর ঠিক পরই তিনি পোস্ট করেন বিখ্যাত রামপ্রসাদী শ্যামাসঙ্গীত ‘কালী কালী বল রসনা’। গানটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “মাতৃদেবীর আরাধনা ভক্তদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে। তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা সকলকে নবশক্তিতে পূর্ণ করে।”তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই বিজেপিকে ‘হিন্দি বলয়ের দল’ এবং ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করে এসেছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, বিজেপি কেবল ‘জয় শ্রী রাম’ সংস্কৃতি বোঝে। বাংলার শাক্ত পরম্পরা বা মা কালীর মাহাত্ম্য তারা জানে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই তকমা ঝেড়ে ফেলতেই এখন মরিয়া গেরুয়া শিবির। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্রিগেডের জনসভায় মোদির জন্য যে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপির প্রধান স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’ থাকলেও, ইদানিংকালে মোদী ও শাহের মুখে বারবার মা কালীর নাম শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বাংলার ঘরের আবেগ ‘মা কালী’কে আপন করে নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি করে তাদের মোকাবিলা করতে চাইছে বিজেপি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘ভোট বড় বালাই’। বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব খুব ভালো করেই জানে, উত্তর ভারতের রাম-ভক্তি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাক্ত প্রধান এলাকাগুলিতে ভোট বৈতরণী পার হওয়া কঠিন। তাই, নবরাত্রির সপ্তমীতে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘শ্যামাসঙ্গীত’ পোস্ট আসলে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়ার একটি সচেতন রাজনৈতিক পদক্ষেপ। রামের পাশাপাশি কালীর নাম জপে বাঙালির ‘আবেগ’ ও ‘ভোট’ - দুই-ই এখন লক্ষ্য মোদী সরকারের।