জল-স্থল-আকাশপথে ড্রোন বিধ্বংসী চক্রব্যূহ! পুরীর রথযাত্রার আগে সৈকত শহরে এ কেমন নিরাপত্তা?
পুরী: পঞ্জিকা মতে আগামী ১৬ জুন মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমকে কেন্দ্র করে ওড়িশার পবিত্র সৈকত শহর পুরীকে এবার আক্ষরিক অর্থেই এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করছে প্রশাসন। স্থলপথ, জলপথ থেকে শুরু করে আকাশপথ— সর্বত্র জারি করা হয়েছে এক নজিরবিহীন বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভিড় সামলানো এবং যেকোনোও আপৎকালীন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার ওড়িশা পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি মোতায়েন করা হচ্ছে ১২০০-রও বেশি পুলিশকর্মী ও সশস্ত্র জওয়ান।[TECHTARANGA-POST:10745]নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবার পুরীর আকাশে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাবে ড্রোনের বিশেষ নজরদারি দল। শুধু তাই নয়, কোনওরকমের অনভিপ্রেত আকাশপথের হামলা বা নজরদারি রুখতে মোতায়েন রাখা হচ্ছে অত্যাধুনিক 'ড্রোন-প্রতিরোধী' বা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম। ওড়িশা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই পুরীর সমুদ্রে ওড়িশা পুলিশের মেরিটাইম স্টেশন, উপকূলরক্ষী বাহিনী (কোস্ট গার্ড) এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ পেট্রোলিং বা টহলদারি শুরু হয়ে গিয়েছে। সমুদ্রপথে আসা যেকোনোও বিপদ রুখতে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকা জাহাজগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম বা আপৎকালীন মোকাবিলা বাহিনীকে।[TECHTARANGA-POST:10709]মহোৎসব যাতে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এবার সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), আরপিএফ (RPF) এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF) একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। ওড়িশা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) ওয়াই বি খুরানিয়া সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে এনএসজি (NSG)-র কুইক রেসপন্স টিমের কৌশলগত অবস্থান ও মহড়া নিয়ে বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে আরপিএফ এবং ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডকে রেল স্টেশন থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত যৌথভাবে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ডিজিপি। ভক্তদের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই টানটান আয়োজন এখন পুরী জুড়েই স্পষ্ট।