Patanjali Ghee Controversy: পতঞ্জলির ভেজাল ঘি বিতর্ক! ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ৫০ কোটির নজিরবিহীন মামলা ঠুকলেন রামদেব
ভোপাল: ঘি-এর বিশুদ্ধতা নিয়ে তড়িঘড়ি শুরু হওয়া বাগযুদ্ধ এবার পৌঁছাল বিচারালয়ের দোড়গোড়ায়। পতঞ্জলির পণ্যকে ‘নকল’ ও ‘ভেজাল’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এবার চরম আইনি পদক্ষেপ নিলেন যোগগুরু বাবা রামদেব ও তাঁর সংস্থা। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার এক বিরাট মানহানি মামলা দায়ের করেছে পতঞ্জলি ফুডস লিমিটেড। বছরের পর বছর ধরে চলা কাদা ছোড়াছুড়ির পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আইনি যুদ্ধে নামল দুই পক্ষ।এই বহুল চর্চিত সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালে। এক প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে পতঞ্জলির ঘি-কে সরাসরি ‘ভেজাল’ বলে দাবি করেছিলেন ব্রিজভূষণ সিং। শুধু তাই নয়, পতঞ্জলির তৈরি প্রক্রিয়াজাত ঘি না কিনে দেশবাসীকে বাড়িতে গরু-মহিষ পালন করে দুধ থেকে খাঁটি ঘি বানিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ‘পতঞ্জলি’ নামটির অপব্যবহার নিয়েও খোলাখুলি আপত্তি তোলেন তৎকালীন এই সাংসদ। সেই সময় রামদেবের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হলেও ব্রিজভূষণ নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন। পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত আগস্ট মাসে, যখন ফের একবার প্রকাশ্যে পতঞ্জলির ঘি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই বিতর্কিত নেতা। এর পরেই ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে উঠলে বিষয়টি আদালতে নিয়ে যায় পতঞ্জলি কর্তৃপক্ষ।[TECHTARANGA-POST:12675]জানা গিয়েছে, প্রথমে এই বিতর্ক জেলা দায়রা আদালতে পৌঁছালেও সেখানে ইলেকট্রনিক নথি ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র আইনি তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ায় মামলাটি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে স্থানান্তরিত করা হয়। হাইকোর্টে এই ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলার শুনানি চলাকালে ব্রিজভূষণের আইনজীবী তাঁদের লিখিত বক্তব্য পেশ করার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নেন। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।তবে পতঞ্জলির তৈরি ঘি নিয়ে এই ধরণের বিতর্ক কিন্তু একেবারেই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালে উত্তরাখণ্ডের পিথোড়গড়ে পতঞ্জলির কার্যালয়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর আচমকা অভিযান চালিয়ে ঘি-এর নমুনা সংগ্রহ করেছিল। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেখা যায় যে সেই ঘি গুণমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষাতেও ঘি-এর গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে ধরা পড়ে। সেই ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হলে আইনি মানদণ্ড ভাঙার দায়ে পতঞ্জলি সংস্থাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল। এখন দেখার, হাইকোর্টের এই ৫০ কোটি টাকার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়।