মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! ৩৫০০ মেরিন নিয়ে পৌঁছল মার্কিন রণতরী, তবে কি ইরানে স্থল অভিযানের ছক পেন্টাগনের?
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, প্রায় ৩,৫০০ মেরিন ও নৌসেনা সদস্য নিয়ে বিশালাকার যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' (USS Tripoli) শনিবার ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২০ বছরে এই অঞ্চলে এটিই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ।[TECHTARANGA-POST:7666]২৭শে মার্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পৌঁছেছে ইউএসএস ত্রিপোলি। এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, বিশাল পরিবহণ বিমান এবং জল ও স্থল—উভয় পথেই আক্রমণ চালাতে সক্ষম বিশেষ 'অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট' সরঞ্জাম। জাপান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত এই জাহাজটিকে মাত্র দু’সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে তাইওয়ান সীমান্ত থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি স্যান ডিয়েগো থেকে ইউএসএস বক্সার (USS Boxer) সহ আরও দুটি জাহাজ ও মেরিন ইউনিটকেও এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:7662]বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে এই বিশাল বাহিনী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প দিতেই এই পদক্ষেপ। মনে করা হচ্ছে, এই বাহিনী ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র 'খার্গ দ্বীপের' আশপাশে অবস্থান নিতে পারে। যদিও ট্রাম্প বারবার স্থলযুদ্ধের বিপক্ষে মত দিয়েছেন, তবে পেন্টাগনের এই রণপ্রস্তুতি অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।[TECHTARANGA-POST:7661]আমেরিকার এই সামরিক তৎপরতা দেখে চুপ করে নেই তেহরানও। ইরানের প্রথম সারির সংবাদপত্র 'তেহরান টাইমস' সরাসরি মার্কিন বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শিরোনাম করেছে— 'Welcome To Hell'। তাদের দাবি, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখার সাহস করে, তবে তাকে 'কফিনবন্দি' হয়েই ফিরতে হবে।[TECHTARANGA-POST:7657]সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। মার্কিন সেনার এই উপস্থিতি কি শুধুই চাপ তৈরির কৌশল, নাকি বড় কোনো সংঘাতের পূর্বাভাস—সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।