বিশ্ববাজারে যুদ্ধের আবহে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের: পেট্রল-ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা কমল আবগারি শুল্ক!
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হতেই বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। ইরান যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় অশোধিত তেলের দর ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। দেশে এই পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। এর ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ৩ টাকা এবং ডিজেলের ওপর কার্যত কোনও শুল্কই আর অবশিষ্ট রইল না।তবে বড় প্রশ্ন হলো, আবগারি শুল্কের এই বিপুল হ্রাসের সুফল কি সাধারণ মানুষের পকেটে পৌঁছাবে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মধ্যবিত্তের জন্য জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা আপাতত বেশ কম। কারণ, বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণে এতদিন পুরনো দামেই পাম্পগুলোতে তেল বিক্রি হচ্ছিল। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি (OMC) প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলে প্রায় ৪৮.৮ টাকা করে লোকসান করছিল। কেন্দ্রের এই শুল্ক হ্রাসের মূল উদ্দেশ্য হলো তেল সংস্থাগুলির এই বিপুল ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়া।[TECHTARANGA-POST:7611]ইতিমধ্যেই বেসরকারি তেল সংস্থা 'নায়ারা এনার্জি' পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়তির দিকে। এই অগ্নিমূল্য বাজারে কেন্দ্রের শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত আদতে তেল সংস্থাগুলির স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে, না কি সাধারণ মানুষের খুচরো বাজারে তেলের দাম কমবে— তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যুদ্ধের বাজারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রের এই চাল কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।হিডেন স্টোরিজ নিউজ