Central Government: প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না ওষুধ, পাড়ার ফার্মেসিতে বসছে সিসিটিভি! কেন্দ্রের নিয়মে শোরগোল
নতুন দিল্লি: পাড়ার মোড়ের খুচরো ওষুধের দোকান থেকে শুরু করে শহরের চকচকে ফার্মেসি— প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনার অভ্যাসে এবার চিরতরে রাশ টানতে চলেছে কেন্দ্র। চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছভাবে অ্যান্টিবায়োটিক বা কড়া ডোজের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলসে ঐতিহাসিক সংশোধনী এনে পাইকারি বিক্রেতা ছাড়া দেশের সমস্ত খুচরো ওষুধের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। কেন্দ্রের এই কড়া অবস্থানের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে কফ সিরাপ এবং সংবেদনশীল ড্রাগসের বেআইনি কেনাবেচা ও অপব্যবহার রোখা।সম্প্রতি প্রকাশিত ড্রাগস রুলসের ৬৫ নম্বর ধারার খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত যেকোনো দোকানে প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির প্রক্রিয়া এবার থেকে ক্যামেরাবন্দি থাকবে। শুধু সিসিটিভি বসানোই শেষ কথা নয়, ওষুধের কেনাবেচার সমস্ত ফুটেজ অন্তত তিন মাস বা ৯০ দিন সংরক্ষণ করে রাখতে হবে দোকানমালিককে। ড্রাগস কনসালটেটিভ কমিটি ও ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সম্মতি জানিয়েছে। যদি কোনো ফার্মেসির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ড্রাগ ইনস্পেক্টররা এই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সরাসরি সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।বর্তমানে শিডিউল এইচ, এইচ-১ এবং এক্স ক্যাটাগরির ওষুধ বিক্রিতে সরকারি কড়াকড়ি থাকলেও বাস্তবে তা বহু জায়গাতেই মানা হয় না। বিশেষ করে কাশির সিরাপ এবং কড়া ডোজের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সাধারণ মানুষকে দেওয়ার নজির হামেশাই দেখা যায়, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এক গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। সেই অনিয়ম ঠেকাতেই সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত। সিসিটিভি নজরদারির এই বলয় চালু হলে নির্দিষ্ট ও সঠিক প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনাবেচা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।আপাতত এই খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও মতামত চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাধারণ নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর হলে দেশে ওষুধ বিক্রির পুরো পরিকাঠামোয় স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়ার বিপজ্জনক অভ্যাসে বড়সড় লাগাম পরানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।[TECHTARANGA-POST:12703]