Hidden Stories (বাংলা)

এক রাতেই শ্রীঘরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান! নেতার ভাইয়ের ঘর থেকে উদ্ধার ২৬ লাখ নগদ ও আগ্নেয়াস্ত্র

বারাসত: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যেন উল্টে গেল ছক! উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত ও দাপুটে নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের এক ম্যারাথন অ্যাকশন। কোথাও তোলাবাজি, কোথাও ভুয়ো পুলিশ সেজে দাদাগিরি, আবার কোথাও ভোট পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলায় একে একে শ্রীঘরে ঢুকছেন শাসকদলের রথী-মহরথীরা। বুধবার দত্তপুকুর ও গোবরডাঙা থানার পুলিশের যৌথ ও বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাশেমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মেঘনাথ দাস, উপপ্রধানের স্বামী গোপাল কাঞ্জিলাল, তাঁর ছেলে সম্বিত কাঞ্জিলাল এবং জেলা পরিষদের প্রভাবশালী কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা ও তাঁর ভাইকে। এই মেগা গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে এখন তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9531]গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের কীর্তি দেখে খোদ তদন্তকারীরাও কার্যত স্তম্ভিত। কাশেমপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বামী গোপাল কাঞ্জিলাল এলাকায় নিজেকে প্রভাবশালী পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দিতেন এবং সেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন কায়দায় দেদার টাকা তুলতেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এই তোলাবাজির সাম্রাজ্যে সমানভাবে ভাগীদার ছিলেন তাঁর ছেলে সম্বিত কাঞ্জিলাল ও পঞ্চায়েত প্রধান মেঘনাথ দাসও। এলাকায় বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়ানো, মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই তিনজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। অন্যদিকে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, মারপিট ও শ্লীলতাহানির পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দত্তপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহাকেও, যাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক সরাসরি পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:9530]দত্তপুকুরের পাশাপাশি মঙ্গলবার গভীর রাতে গোবরডাঙা থানা এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালায় পুলিশ বাহিনী। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা এবং তাঁর ভাই সুজিত কুমার সাহাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, সুজিত সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয়েছে থরে থরে সাজানো নগদ ২৬ লক্ষ টাকা। শুধু বিপুল অঙ্কের নগদই নয়, ঘরের গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলিও। যদিও ধৃত নেতাদের দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। তবে নবান্নে নতুন সরকার বসার পর যেভাবে আইন নিজের গতিতে চলতে শুরু করেছে, তাতে উত্তর ২৪ পরগনার বাকি দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কপালেও যে এবার বড়সড় খাঁড়া ঝুলছে, তা বলাই বাহুল্য।

এক রাতেই শ্রীঘরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান! নেতার ভাইয়ের ঘর থেকে উদ্ধার ২৬ লাখ নগদ ও আগ্নেয়াস্ত্র

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার