ওড়িশার ঘূর্ণাবর্তে জোড়া অক্ষরেখার টান! দক্ষিণবঙ্গে তুমুল দুর্যোগের পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস!
কলকাতা: তীব্র ভ্যাপসা গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় হাঁসফাঁস করা দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য অবশেষে এক স্বস্তির সুখবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। তবে এই স্বস্তি একা আসছে না, সাথে নিয়ে আসছে কালবৈশাখীর মারাত্মক দাপট। আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় ঝড়-বৃষ্টির এক নাগাড়ে তাণ্ডব চলবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। [TECHTARANGA-POST:9535]এই আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে উত্তাল হতে পারে সমুদ্র, যার কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে জারি করা হয়েছে চরম নিষেধাজ্ঞা। ওড়িশায় তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ওড়িশা ও বিহার থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত জোড়া অক্ষরেখার জোড়া ফলায় দক্ষিণবঙ্গের আকাশজুড়ে এখন মেঘের ঘনঘটা। আজ থেকেই পূর্ব বর্ধমান ও তার সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9553]আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুই বর্ধমান, নদিয়া, বাঁকুড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাসের সাথে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টি আছড়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি সমস্ত জেলাতেই ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে এবং সাথে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুর্যোগের হাত থেকে এখনই রেহাই মিলছে না। আগামীকাল, শুক্রবারও ঝড়-বৃষ্টির এই দাপট সমানে বজায় থাকবে দক্ষিণবঙ্গের বুকে। [TECHTARANGA-POST:9528]বিশেষ করে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিবেগে কালবৈশাখীর ঝাপটা আছড়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই উইকেন্ড অর্থাৎ শনি এবং রবিবারও দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে এই ঝড়-বৃষ্টির খেলা চলবে। তবে রবিবারের পর থেকে বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি।[TECHTARANGA-POST:9540]দক্ষিণবঙ্গ যখন কালবৈশাখীর দাপটে কাঁপবে, তখন উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। আলিপুর সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে এখনই কোনো ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। তবে আজ এবং আগামীকাল দার্জিলিং, মালদহ এবং দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা ঝড়-বৃষ্টির একটা সম্ভাবনা থাকছে। কিন্তু উপকূলবর্তী এলাকার জন্য মূল চিন্তা বাড়াচ্ছে সমুদ্রের রূপ। সমুদ্র চরম উত্তাল হওয়ার আশঙ্কায় আজ ও আগামীকাল মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ বারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েকটা দিন দক্ষিণবঙ্গের আকাশ জুড়ে কালবৈশাখীর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন গরম থেকে সাময়িক মুক্তি দিলেও, ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।