যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি মানুষের উদাসীনতা? আর জি করে অপমৃত্যুর কারণ খুঁজতে নমুনা সংগ্রহে ফরেনসিক দল
কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনের সেই ‘খুনি’ লিফট কেন আচমকা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল? যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি রক্ষণাবেক্ষণের চরম অভাব - ঠিক কোন কারণে অকালে প্রাণ গেল দমদমের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই রহস্যভেদে শনিবার সকালেই হাসপাতালে পৌঁছলেন ফরেনসিক দলের প্রতিনিধিরা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে লিফটের সেন্সর ও কন্ট্রোল প্যানেল। এদিকে, এই ঘটনায় ধৃত পাঁচজনকে এদিনই শিয়ালদহ আদালতে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7467]শনিবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা লিফটের ভিতর ও যেখান থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই বেসমেন্ট এলাকা ঘুরে দেখেন। কোন তলায় অরূপরা লিফটে উঠেছিলেন এবং কোন বোতাম টেপা হয়েছিল, তার একটি ডিজিটাল ম্যাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই টালা থানার হাত থেকে তদন্তের দায়িত্বভার নিয়ে নিয়েছে লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগ। তদন্তকারীদের প্রধান প্রশ্ন, যদি লিফটে আগে থেকেই যান্ত্রিক সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে তা কেন বন্ধ করে রাখা হয়নি?[TECHTARANGA-POST:7468]অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টই তাঁর মৃত্যুর ভয়াবহতা স্পষ্ট করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত চাপে তাঁর হাত, পা এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও যকৃৎ আঘাতে ফেটে (Rupture) গিয়েছে। [TECHTARANGA-POST:7465]মৃতের পরিবারের অভিযোগ, লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটির চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর ছিল উপস্থিত কর্মীদের অমানবিকতা। বেসমেন্টে লিফটের বাইরের লোহার গ্রিলটি তালাবন্ধ ছিল। অরূপের বোনের অভিযোগ, “দেড় থেকে দু’ঘণ্টা ধরে হাত জোড় করে আমরা কাকুতি-মিনতি করেছি তালাটা ভাঙার জন্য। উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নিরাপত্তাকর্মীরা কেউ এগিয়ে আসেনি। বলা হচ্ছিল, তালার চাবি নাকি পূর্ত দফতরের (PWD) কাছে আছে! দ্রুত তালা ভাঙা হলে হয়তো অরূপকে বাঁচানো যেত।”[TECHTARANGA-POST:7463] শুক্রবার রাতেই টালা থানার পুলিশ তিনজন লিফটম্যান (মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ) এবং দুই নিরাপত্তারক্ষী (আশরফউল রহমান, শুভদীপ দাস)-কে গ্রেফতার করেছে। সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা লিফটম্যান থাকার নিয়ম থাকলেও ঘটনার সময় কেন কেউ ছিলেন না, তা নিয়ে ধৃতদের জেরা করতে চায় পুলিশ।আর জি কর কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট তৈরি করে স্বাস্থ্য ভবনে জমা দেবে। যদিও শোকাতুর পরিবারের প্রশ্ন, প্রশাসনিক রিপোর্ট কি আর ফিরিয়ে দিতে পারবে এক শিশুর বাবার প্রাণ?