কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকার পর অবশেষে কাটতে চলেছে দিল্লির জট! তৃণমূল জমানার অবসান ও রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই এবার বাংলায় ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় গ্রামীণ প্রকল্প। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই বড়সড় ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র থেকে বকেয়া বরাদ্দ আসতে শুরু করায় গ্রামীণ উন্নয়নের থমকে থাকা কাজগুলি দ্রুত গতিতে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ বাংলায় কর্মসংস্থান, গরিবের আবাসন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সাল থেকেই এ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কার্যত পুরোপুরি স্থগিত করে দিয়েছিল মোদী সরকার।[TECHTARANGA-POST:9744]পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের আওতায় থাকা যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প এতদিন বন্ধ হয়ে পড়েছিল, সেগুলিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা ১০০ দিনের কাজ (MGNREGS), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G), প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY), দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন, রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান, জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের আওতাধীন বিভিন্ন অনুদান। ফলে পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির খেসারত দিয়ে গ্রামীণ বাংলার যে সাধারণ মানুষ এতদিন নিজেদের হকের টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, তাঁদের ঘরে এবার লক্ষ্মীলাভ হতে চলেছে।[TECHTARANGA-POST:9736]এদিনের বৈঠক থেকে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় এক বিরাট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২৭ মে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, গোটা রাজ্য জুড়ে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দিল্লি থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র বা চূড়ান্ত অনুমোদন মেলা মাত্রই রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই রাস্তা ও সেতু তৈরির কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে নবান্নের এই মাস্টারস্ট্রোক গ্রামীণ বাংলার অর্থনৈতিক চেহারাটাই বদলে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার