Hidden Stories (বাংলা)

রাজীবের নিশানায় সুকান্ত! ‘ফাইল চুরি’র কলঙ্ক ঢাকতেই কি আইনি নোটিস?

কলকাতা: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমারের ‘সুনাম’ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অতীতে সারদা কাণ্ডে ফাইল লোপাটের অভিযোগে যাঁর দরজায় সিবিআই হানা দিয়েছিল, সেই রাজীব কুমার-ই এবার মানহানির দোহাই দিয়ে আইনি নোটিস পাঠালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। অভিযোগ, কয়লা ও গরুপাচার কাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে সুকান্ত নাকি রাজীবের ‘উজ্জ্বল’ চরিত্রে কালি ছিটিয়েছেন![TECHTARANGA-POST:6688]সম্প্রতি বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা চলাকালীন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জনসভায় রাজীব কুমারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন সুকান্ত মজুমদার। রাজীবের আইনজীবীর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় সুকান্ত মজুমদারের বক্তৃতার যে ভিডিয়ো ছড়িয়েছে, তাতে তাঁর মক্কেলের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে ফৌজদারি মামলার হুমকিও দিয়েছেন প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, যাঁর আমলজুড়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ আর দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ, তাঁর আবার ‘মানহানি’ কীসের?[TECHTARANGA-POST:6691]রাজীবের এই আইনি চমককে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ সুকান্ত মজুমদার। বালুরঘাটের সাংসদ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজীব কুমারের অতীত। সুকান্তর সাফ কথা, “ওঁর যা ভাবমূর্তি, তা তো সবাই জানে। ফাইল লোপাটে অভিযুক্ত হিসাবেই মানুষ ওঁকে চেনে। সাম্প্রতিক অতীতেও দেখা গিয়েছে উনি মুখ্যমন্ত্রীর শাগরেদ হয়ে ফাইল চুরিতে হাত মিলিয়েছেন। আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণেই ওঁর ভূমিকা স্পষ্ট। উনি আইনি পথে লড়তে চাইলে আমরাও তৈরি।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজীব কুমারের এই আইনি তৎপরতা আসলে আসন্ন নির্বাচনের আগে শাসকদলের ইশারাতেই এক প্রকারের ‘সেফ প্যাসেজ’ তৈরির চেষ্টা। রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সারদা কেলেঙ্কারির তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার যে গুরুতর অভিযোগ সিবিআই তুলেছিল, তা আজও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। শিয়ালদহ থেকে শিলিগুড়ি — পুলিশের এক শ্রেণির কর্তারা যেভাবে তৃণমূলের ক্যাডারের মতো কাজ করছেন, রাজীব কুমার তার এক অন্যতম বড় উদাহরণ।[TECHTARANGA-POST:6683]সুকান্ত মজুমদার যেভাবে সরাসরি চোর-পুলিশের এই অশুভ আঁতাতকে কাঠগড়ায় তুলেছেন, তাতে অস্বস্তি বেড়েছে নবান্নের। কয়লা ও গরুপাচারের টাকা কার কার পকেটে গিয়েছে, সেই তদন্তে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নাম আসা মোটেও অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। ফলে রাজীব কুমারের এই নোটিস আসলে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছে বিজেপি শিবির।[TECHTARANGA-POST:6679]সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রাজীব কুমার ক্ষমা চাইতে বললেও, সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিল, আদালতে রাজীবের স্বরূপ উন্মোচন করতে বিজেপি বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।

রাজীবের নিশানায় সুকান্ত! ‘ফাইল চুরি’র কলঙ্ক ঢাকতেই কি আইনি নোটিস?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার