SBI Cyber Attack:এসবিআই-এ ভয়াবহ সাইবার হানা! খালি হয়ে গেল কি ৩,৯০০ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট?
মুম্বই: দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই-এর গ্রাহক তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিস্ফোরক ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। প্রায় ৩,৯০০ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার পর এবার চরম তৎপরতার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই সাইবার হামলায় যেসব গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে ইমেল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। একই সাথে উদ্বেগের মেঘ কাটাতে ব্যাংকের তরফে কোটি কোটি গ্রাহককে আশ্বস্ত করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, সমস্ত অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এবং গচ্ছিত অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।ব্যাংক সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক ভয়াবহ সাইবার হানার মাধ্যমে প্রায় ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের নাম, ইমেল আইডি, ফোন নম্বর এবং লোনের নথিপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। 'সিরিয়াসিম' নামের একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার দল এসবিআই-এর অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে থাবা বসিয়ে সেই সংবেদনশীল ডেটা ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তুলেছে বলে খবর সামনে আসে। প্রাথমিক তথ্যে দাবি করা হয়েছিল যে, হ্যাকারদের নাগালের মধ্যে ৩.৭৫ লক্ষ সারির ডেটা এবং প্রায় ২,৭২২টি গোপনীয় পিডিএফ ফাইল চলে গিয়েছে। ১৬ অক্টোবর ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি ও সিআরটি-ইন (CERT-In)-এর তরফ থেকে সংকেত পাওয়ার পর থেকেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে এসবিআই।[TECHTARANGA-POST:13840]সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের রেকর্ড প্রভাবিত হলেও ব্যাংকের মূল আইটি পরিকাঠামো বা কোনো অর্থনৈতিক লেনদেনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তবে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে নিরাপদে ডিজিটাল ব্যাংকিং করার কড়া পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেকোনো সন্দেহজনক ইমেল, মেসেজ কিংবা অচেনা ফোন কলের ফাঁদে না পা ফেলার পাশাপাশি পিন, পাসওয়ার্ড বা গোপন ওটিপি কারও সাথে ভাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনার নেপথ্যে থাকা হ্যাকারদের উৎস ও ডেটা ফাঁসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যৌথভাবে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে দেশের শীর্ষ সাইবার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে এসবিআই। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও ডিজিটাল যুগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড়সড় উদ্বেগ সামনে এসে দাঁড়াল।