তিলোত্তমা ছুঁয়ে রাজধানীতে মার্কিন বিদেশসচিব! ‘সেবাতীর্থে’ মোদীর সঙ্গে বৈঠকে মার্কো রুবিও
নয়াদিল্লি: চারদিনের ভারত সফরের প্রথম দিনেই সামান্যতমও ফুসরত নেই মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর। শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতায় পা রাখার পর, সেখানকার সমস্ত কর্মসূচি চটজলদি সেরে দুপুরেই সোজা দেশের রাজধানী নয়াদিল্লি এসে পৌঁছলেন তিনি। আর, দিল্লিতে নেমেই মার্কিন বিদেশসচিবের কনভয় চলে যায় ‘সেবাতীর্থে’। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন রুবিও। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান আবহে মোদী-রুবিওর এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।[TECHTARANGA-POST:9415]রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সেবাতীর্থে’ আয়োজিত এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূকৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হতে চলেছে। যার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, উন্নত প্রযুক্তি আদানপ্রদান, যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ‘কোয়াড’ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের আসন্ন সম্মেলন নিয়ে বিশেষ রণকৌশল নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব কীভাবে আরও মজবুত করা যায়, তা নিয়ে মোদী ও রুবিও বিস্তারিত আলোচনা করছেন বলে সূত্রের খবর।[TECHTARANGA-POST:9411]মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফর ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি স্পষ্ট জানান, এই সফর কোনও ভাঙা সম্পর্ক জোড়া বা মেরামতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং দুই বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারের গভীর বন্ধুত্বেরই এক বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোদ এই ভারত সফর অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দূরদৃষ্টির’ ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি আসন্ন কোয়াড সম্মেলন থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল বেরোবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন সার্জিও গর।[TECHTARANGA-POST:9402]এর আগে, শনিবার সকালে কলকাতায় নেমেই হোয়াইট হাউসের এই শীর্ষ প্রতিনিধি সোজা চলে গিয়েছিলেন তালতলার ‘মাদার হাউস’-এ। সেখানে মাদার তেরেসার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটানোর পর তিনি যান ‘নির্মলা শিশুভবন’ পরিদর্শনে। সেখান থেকেই সরাসরি বিমানবন্দরে পৌঁছে দিল্লির বিমান ধরেন তিনি। [TECHTARANGA-POST:9347]ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বর্তমান সময়ে হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন সঙ্কটের আবহে রুবিওর এই সফর দিল্লির জন্য বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে। ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার সওয়াল করে এসেছে। ফলে আমেরিকার বিদেশসচিবের এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অবস্থান আগামী দিনে আরও স্পষ্ট করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।