কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে এবার এমন এক পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটল, যা নবান্ন থেকে শুরু করে দিল্লির সাউথ ব্লক পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছে। লোকসভায় আলাদা ব্লক তৈরির জল্পনার মাঝেই এবার খোদ তৃণমূলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মারাত্মক অভিযোগ এনে সরব হলেন বারাসতের বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর চাঞ্চল্যকর দাবি, বাংলার তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগযোগ ছিল বাংলাদেশের উগ্রপন্থী বা জঙ্গি সংগঠনের! শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী দেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ফেলে দেওয়ার এক গভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্তেও নাকি শামিল ছিল এই দল। এই হাড়হিম করা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি অত্যন্ত গোপন ও বিস্ফোরক চিঠি পাঠিয়েছেন কাকলি।[TECHTARANGA-POST:9884]রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এই চিঠির নেপথ্যে রয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিকতম অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন। সেই রিপোর্টের সূত্র টেনেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা এক প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে বাংলাদেশের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির সরাসরি ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূল জমানায় বাংলার বুকে যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ঘটেছিল, সেই দুর্নীতির কালো টাকাও নাকি সীমান্ত পেরিয়ে দেদার পাচার করা হয়েছে বাংলাদেশে। আর সেই অবৈধ অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল ওপার বাংলার নির্বাচিত সরকারকে গদিচ্যুত করার মতো ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতামূলক কাজে। এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতেই জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9883]বিদেশমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলার তৎকালীন রাজ্য সরকারের আমলে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ বা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে কেন প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কাকলির অভিযোগ, এর পেছনেও কি তবে কোনো গোপন এজেন্ডা কাজ করছিল? চিঠিতে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী হেভিওয়েট সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, এই গুরুতর অভিযোগগুলি এখনও হয়তো আইনিভাবে প্রমাণিত নয়, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের খাতিরে এগুলির সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। আর সেই কারণেই অবিলম্বে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত হওয়া উচিত।[TECHTARANGA-POST:9881]এমনিতেই সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র কাটাছেঁড়া চলছে। তার ওপর দলেরই এক শীর্ষস্তরের সাংসদ যেভাবে সরাসরি জঙ্গি যোগ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সরকার ফেলার চক্রান্তের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনলেন, তাতে তৃণমূলের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। যদি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আনা এই সমস্ত বিস্ফোরক অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে শুধু রাজনৈতিক বিপর্যয়ই নয়, গোটা দলকেই এবার সরাসরি দেশদ্রোহিতার মতো চরম আইনি ও জাতীয় অপরাধের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার