Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকায় গ্রামের রাস্তা সংস্কার! কোথায় ঘটল এমন অভূতপূর্ব ঘটনা?
বাঁকুড়া: অদম্য সদিচ্ছা আর জনসেবার মনোভাব থাকলে যে সামান্য সামর্থ্য দিয়েই বিশাল পরিবর্তন আনা সম্ভব, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়ে উঠল বাঁকুড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে কাদা ও খানাখন্দে ভরা গ্রামের বেহাল রাস্তা সারাইয়ের কোনো উদ্যোগ না দেখে অবশেষে নিজের সরকারি প্রকল্পের ভাতাই সাধারণ মানুষের কাজে উৎসর্গ করলেন এক বধূ। বাঁকুড়ার সোনামুখী বিধানসভার ধুলায় অঞ্চলের কামারগড় গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা। এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার চলাচলের পথ সংস্কারের জন্য নিজের দুই মাসের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সম্পূর্ণ অর্থ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ দান করে দিলেন এক স্থানীয় বিজেপি নেতার স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে খবর, সোনামুখী ২ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি দেবশংকর ঘোষের পরিবার নিতান্তই সাধারণ এবং আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়েই দিনযাপন করে। সম্প্রতি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা দেবশংকরের কাছে এসে কামারগড় গ্রামের প্রধান রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা জানান। বর্ষাকালে হাঁটু সমান কাদা পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে নিত্যদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের কষ্টের কথা শুনে এগিয়ে আসেন দেবশংকরের স্ত্রী মাম্পি ঘোষ। নিজের সংসারের টানাটানির কথা না ভেবে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সরকারি প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত নিজের দুই মাসের ভাতার অর্থ গ্রামের রাস্তা সারাইয়ে দান করবেন।বধূর দেওয়া সেই অর্থ দিয়েই দ্রুত আনা হয় মোট ৭ ট্রাক্টর মোরাম। গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সেই মোরাম দিয়ে বেহাল ৪০০ মিটার রাস্তা ভরাট ও সমতল করে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচি চলছে। দলের এক সাধারণ কর্মীর পরিজন যেভাবে সরকারি ভাতা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করে গণকল্যাণে উৎসর্গ করেছেন, তা এই অভিযানের মূল আদর্শকেই প্রতিফলিত করে। বিজেপির দাবি, ইচ্ছা থাকলে যে সীমিত সামর্থ্য দিয়েই সমাজ পরিবর্তন করা যায়, মাম্পি ঘোষ তা প্রমাণ করে দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:12948]ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কামারগড় গ্রামে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ভাতার টাকায় চলাচলের রাস্তা সুগম হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ ওই বধূর এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে বিজেপি নেতার পরিবারের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সরকারি সুবিধা জনসেবায় খরচের বিষয় নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।