Bohurupi: The Golden Daku Film Review: ‘বহুরূপী’র ছায়া ছাপিয়ে বাজিমাত ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’! শিবপ্রসাদের অভিনয়ে মুগ্ধতা, কেমন হল সিক্যুয়েল?
একটি সফল ছবির সিক্যুয়েল তৈরি করা যতটা কঠিন, দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করা তার চেয়েও কঠিন। ভারতীয় সিনেমায় ‘সরকার’-এর পর ‘সরকার রাজ’, ‘দৃশ্যম’-এর পর ‘দৃশ্যম ২’ কিংবা ‘রেস’-এর পর ‘রেস ২’ এর অন্যতম উদাহরণ। বাংলা ছবিতেও সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির ‘বহুরূপী’। আর সেই ছবির সিক্যুয়েল ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ দেখতে বসে প্রথমেই মনে হয়েছিল, ডাকাতির গল্পকে আদেও নতুনভাবে বলা সম্ভব? ছবির গল্প যত এগিয়েছে, ততই বদলে গিয়েছে ধারণা। একের পর দৃশ্য এগিয়ে চলেছে, আর দর্শকদের মনে একটাই প্রশ্ন যে এরপর কী হবে? প্রথমার্ধেই ডাকাত বিক্রম প্রামাণিকের প্রতি তৈরি হতে থাকে অদ্ভুত এক টান। চিত্রনাট্যের এই টানটান গতি এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়ই বাজিমাত করেছে। সিক্যুয়েল হয়েও ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’ যে ‘বহুরূপী’র পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেছে। একটি সফল চিত্রনাট্যের বড় পরীক্ষা হল দর্শককে পরের দৃশ্য দেখার জন্য অপেক্ষায় রাখা। সেই পরীক্ষায় নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদের চিত্রনাট্য এবং সংলাপ বেশ ভালোভাবেই উত্তীর্ণ। [TECHTARANGA-POST:13670]অভিনয়ের প্রসঙ্গে আলাদা করে শিবপ্রসাদ অনবদ্য। ‘বহুরূপী’র প্রথম ছবিতে পুলিশের চরিত্রে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ও ছিল নজরকাড়া। তা মাথায় রেখেই ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’-তে যিশু সেনগুপ্তের অভিনয় দেখার মতো। পাশাপাশি ঝিমলি ও কৌশানীর উপস্থিতিও গল্পের নিজস্ব আবহ তৈরি করে। শিবপ্রসাদ ও কৌশানীর পর্দার সম্পর্কের মধ্যেও রয়েছে বাংলার মাটির চেনা গন্ধ। তাঁদের প্রেমের দৃশ্যগুলি বাঙালি দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছে আপন। অন্যদিকে, ছবিতে রাজনীতির পালাবদলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।তবে সব দিক সমানভাবে মন ছুঁতে পারেনি। বিশেষ করে গানগুলি ‘বহুরূপী’র প্রথম ছবির মতো হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু চিত্রনাট্যের গতি, অভিনয়, চোর-পুলিশের দ্বন্দ্ব এবং গল্পের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সব মিলিয়ে ছবিটি দর্শককে ধরে রাখে। পুজোর মরসুমে টানটান গল্প আর দাপুটে অভিনয়ের খোঁজে থাকলে ছবিটি দেখতে পারেন।