Hidden Stories (বাংলা)

ইথানল উৎপাদনে আখের ঘাটতি ও রেকর্ড দামবৃদ্ধি, সংকট মেটাতে ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির পথে কেন্দ্র

নয়াদিল্লি: যে ভারত এতদিন বিশ্বের বাজারে চিনির অন্যতম প্রধান রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই ভারতেই এবার তৈরি হয়েছে চরম চিনি সংকট। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে প্রায় এক দশক পর বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সামনেই দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মতো বড় উৎসবের মরশুম। তার ঠিক মুখেই খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় পৌঁছে রেকর্ড তৈরি করেছে। উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে চিনির ঝাঁজ কমাতে ও সার্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার।সংকটটি মূলত তৈরি হয়েছে একাধিক কারণের সমন্বয়ে। অনিয়মিত বর্ষার কারণে চলতি বছরে আখের উৎপাদন এমনিতেই বেশ খানিকটা ধাক্কা খেয়েছিল। তার ওপর কেন্দ্রের ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি চিনির বাজারে জোরাল প্রভাব ফেলেছে। ইথানল তৈরিতে বিপুল পরিমাণ আখের রসের প্রয়োজন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলি বেশি দামে কৃষকদের থেকে সরাসরি আখ কিনে নিচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই চিনি কলগুলিতে আখের জোগান তলানিতে এসে ঠেকেছে এবং কমেছে উৎপাদন। দেশের প্রধান 'চিনি হাব' মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে কুইন্টালপ্রতি চিনির দাম রেকর্ড ছুঁয়ে ৫ হাজার ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরো বাজারে। মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ পরিবার— সর্বত্রই বাড়ছে উদ্বেগের পারদ।দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির দাম কিছুটা বাগে আনতেই এই আমদানির কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যাতে কুইন্টালপ্রতি অন্তত ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো সম্ভব হয়। তবে বিশ্বের মোট চিনি চাহিদার প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশ একাই সরবরাহ করা ভারত যখন নিজেই আমদানির রাস্তায় নামছে, তখন ব্রিটেন ও আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির দামে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনে আরও চিনি আমদানি করতে হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান।[TECHTARANGA-POST:11797]হিডেন স্টোরিজ নিউজ

ইথানল উৎপাদনে আখের ঘাটতি ও রেকর্ড দামবৃদ্ধি, সংকট মেটাতে ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির পথে কেন্দ্র