Hidden Stories (বাংলা)

গণনার দিনই মাঠ ছেড়েছিল আইপ্যাক? বঙ্গে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সঙ্গে কি চিরতরে বিচ্ছেদ?

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্কে কি এবার ইতি পড়তে চলেছে? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে সবথেকে জোরালো হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, গত ৪ মে গণনার দিন বেলা ১২টার পর থেকে আইপ্যাক প্রতিনিধিদের রহস্যজনকভাবে ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া নিয়ে দলের অন্দরেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে। ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, হারের দায় যেমন আইপ্যাকের ভুল রিপোর্টের, তেমনই তাদের আচমকা নিষ্ক্রিয়তাও চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয়![TECHTARANGA-POST:8860]তৃণমূল সূত্রে খবর, ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আইপ্যাকের বিধানসভাভিত্তিক রিপোর্টকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বহু পুরনো বিধায়কের টিকিট কাটা বা আসন পরিবর্তনের যে সুপারিশ সংস্থাটি করেছিল, তা আদতে হিতে বিপরীত হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থার কর্মীদের একাংশ জেলাস্তরের বড় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে সঠিক তথ্যের বদলে ‘জল মেশানো’ রিপোর্ট পাঠাতেন শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে! ফলে বাস্তবের মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল শাসকদল।[TECHTARANGA-POST:8846]সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে গণনার দিন আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে। জানা যাচ্ছে, ৪ মে দুপুর ২টোর পর থেকেই আইপ্যাকের কর্মীরা অফিস ছেড়ে বাড়ির পথ ধরেন! এমনকী, ভোটের দু’দিন আগেও তাঁদের নাগাল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক তৃণমূল প্রার্থী। ১৯ এপ্রিল সংস্থার কর্মীদের কাছে ইমেল পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আইনি বাধ্যবাধকতার যুক্তি দেখালেও, তৃণমূলের একাংশ একে বড় কোনও ষড়যন্ত্র হিসাবেই দেখছে।[TECHTARANGA-POST:8832]এদিকে, বাংলার এই বিপর্যয়ের আঁচ লেগেছে উত্তরপ্রদেশেও। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও, তৃণমূলের এই ভরাডুবির পর তারাও এখন সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটছে বলে খবর। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে বিজয়ের দল ‘টিভিকে’-র সাফল্যের নেপথ্যে আইপ্যাকের প্রাক্তন কর্তা কপিল সাহুর প্রশংসা শোনা গেলেও, বাংলা ও তামিলনাড়ুর বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের পতনের জন্য সরাসরি এই সংস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।[TECHTARANGA-POST:8761]২০২৬-এর নির্বাচন পর্যন্ত তৃণমূল ও আইপ্যাকের মধ্যে যে গাঁটছড়া ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার আর পুনর্নবীকরণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ক্ষমতায় না থাকার ফলে এবং হারের দায়ভার নিয়ে দুই পক্ষের সম্পর্কের তিক্ততা এখন চরমে।[TECHTARANGA-POST:8811]দীর্ঘদিন ‘দিদিকে বলো’ থেকে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’-এর মতো কর্মসূচি সাজিয়ে যারা তৃণমূলের জয়ের রাস্তা মসৃণ করেছিল, আজ সেই আইপ্যাকই কি তবে তৃণমূলের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়ে থাকল? উত্তর খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা।

গণনার দিনই মাঠ ছেড়েছিল আইপ্যাক? বঙ্গে ভরাডুবির পর তৃণমূলের সঙ্গে কি চিরতরে বিচ্ছেদ?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার