Hidden Stories (বাংলা)

কালীঘাটের বৈঠকে বেনজির ‘বিদ্রোহ’! অভিষেকের দিকে সোজা আঙুল তুললেন কুণালরা, ভাঙনের মুখে তৃণমূল?

কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর ‘বিদ্রোহে’র আগুনে কার্যত পুড়তে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস! মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত পরিষদীয় দলের বৈঠককে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নাটক তৈরি হল। [TECHTARANGA-POST:9284]আগামী বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভাকেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে অস্ত্র করে এবার সরাসরি দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন দলেরই তিন দাপুটে বিধায়ক। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা একজোট হয়ে যেভাবে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9243]তৃণমূলের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার একই গাড়িতে চড়ে কালীঘাটের বৈঠকে এসেছিলেন কুণাল, ঋতব্রত ও সন্দীপন। বৈঠকে যোগ দিয়েই তাঁরা ফলতার জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে কেন এখনও বহিষ্কার করা হল না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলেন। অভিষেকের লোকসভাকেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের অধীনে থাকা ফলতার প্রার্থী জাহাঙ্গিরকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। সমস্ত রকম বাড়তি দলীয় ও প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার পরও ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে কেন জাহাঙ্গির শুভেন্দু অধিকারীর ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’-এর বন্দনা করে ময়দান ছাড়লেন এবং তারপরও কেন দল তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল না, তা নিয়ে সরাসরি অভিষেকের দিকেই ঠারেঠোরে আঙুল তোলেন তাঁরা। যদিও অভিষেক বৈঠকে মনে করিয়ে দেন যে জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং দল এর নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছে। কিন্তু, তাতেও ক্ষোভ কমেনি বিদ্রোহীদের।[TECHTARANGA-POST:9269]ঘটনাচক্রে, গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোটগ্রহণের আগে এক নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে জাহাঙ্গির খান তাঁকে সেখানে একটি বড় শ্মশান তৈরি করে দিতে বলেছেন। অভিষেক রসিকতা করে বলেছিলেন, ৪ মে নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর বিরোধী দলের যাঁদের হার্ট অ্যাটাক হবে, তাঁদের ওই শ্মশানে দাহ করা হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে বিদ্রোহীদের মুখে উঠে আসে সেই শ্মশানের প্রসঙ্গও। তাঁরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে প্রশ্ন তোলেন, এখন সেই শ্মশান কে তৈরি করবে আর কাকে সেখানে দাহ করা হবে! শুধু তাই নয়, কুণাল ঘোষ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন যে দলের অন্দরে এবার মন খুলে কথা বলার খোলা হাওয়া বা স্বাধীনতা দিতে হবে। চার দেওয়ালের ঘরে বসে অনেক বৈঠক হয়েছে, এবার দলের নেতাদের রাস্তায় নামতে হবে। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে দেখা গেলেও, অভিষেক যেভাবে নিজেকে আড়ালে রেখেছেন, তা নিয়ে কুণালের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9285]বিদ্রোহের এই আবহে তৃণমূলের বৈঠকে আরও বড় দুশ্চিন্তার মেঘ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবারের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের মোট ১৫ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখালেও, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক জানান যে তিনি জরুরি কাজে দিল্লিতে রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে, ওই বিধায়ক আসলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লি গিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। যদিও এই জল্পনায় এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও সিলমোহর পড়েনি।[TECHTARANGA-POST:9233]অন্যদিকে, বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনও বিধানসভার সচিবালয় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেয়নি। সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছিল, যে বৈঠকে শোভনদেববাবুকে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রস্তাবে অন্তত ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত পত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু, মঙ্গলবারের বৈঠকে অনেক টানাটানির পর সেই চিঠিতে মাত্র ৬৫ জন বিধায়ক সই করেছেন বলে খবর, যার তারিখ দেওয়া ছিল গত ৬ মে! সব মিলিয়ে, একদিকে ক্ষমতার হাতবদল আর অন্যদিকে দলের অন্দরে কুণাল ঘোষদের এই খোলাখুলি বিদ্রোহ — সব মিলিয়ে চরম অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কালীঘাটের বৈঠকে বেনজির ‘বিদ্রোহ’! অভিষেকের দিকে সোজা আঙুল তুললেন কুণালরা, ভাঙনের মুখে তৃণমূল?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার