আছড়ে পড়ল নতুন অতিমারি? নেই কোনও ভ্যাকসিন, আফ্রিকায় ইবোলার মরণকামড়ে ভারতীয়দের ওপর জারি কড়া নিষেধাজ্ঞা!
নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে কি তবে আরও এক ভয়ঙ্কর করোনা-সদৃশ অতিমারির কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে? মধ্য আফ্রিকায় নতুন করে বেলাগাম রূপ ধারণ করেছে মারণ ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে (ডিআরসি) শনিবার রাত পর্যন্ত প্রায় ৮৬৭ জন এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ইতিমিধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই সংক্রমণকে বিশ্বব্যাপী জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গো ও তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে এই রোগের ঝুঁকি এখন আকাশছোঁয়া। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আফ্রিকার ৩টি দেশে যাতায়াতের ওপর একগুচ্ছ কড়া নিষেধাজ্ঞা ও গাইডলাইন জারি করল ভারত সরকার।[TECHTARANGA-POST:9438]চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের ইবোলা সংক্রমণ কোনও সাধারণ ভাইরাস নয়, বরং অত্যন্ত বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেনের কারণে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো এখনও কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের খনি অঞ্চলে এই ভাইরাস প্রথম ছড়ালেও, খনি কর্তৃপক্ষ তা প্রথমে বুঝতে পারেননি। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, আপদকালীন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এখনও পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পৌঁছায়নি, ফলে পরিস্থিতি কার্যত নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9418]আফ্রিকার এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত সরকার একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। ভারতীয় নাগরিকদের কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সমস্ত রকম যাতায়াত এড়ানোর কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সুদানকেও এই রোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতে এখনও পর্যন্ত এই ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেনের কোনও আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে দেশের সমস্ত বিমানবন্দর ও প্রবেশপথগুলিতে স্ক্রিনিং ও নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। আফ্রিকার ওই তিন দেশে থাকা ভারতীয়দের স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে, অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকতে এবং সামান্য জ্বর হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9371]সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে কঙ্গো সরকার তাদের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুনিয়াতে সমস্ত বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। অন্যদিকে উগান্ডা সরকার কঙ্গোর সঙ্গে বিমান ও সমস্ত গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ করে সীমান্ত পুরোপুরি সিল করে দিয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বড় বড় সাপ্তাহিক বাজারগুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে আপাতত। শুধু তাই নয়, আফ্রিকায় তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থার কারণে মে মাসের শেষে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা হাইপ্রোফাইল ‘ভারত-আফ্রিকা সম্মেলন’ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তড়িঘড়ি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালালেও, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজনীয় ডোজ তৈরি হতে আরও অন্তত ৬ থেকে ৯ মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।