একুশের মঞ্চ বাঁধতেই দোলার নামে পুলিশি নোটিশ! ‘ইচ্ছে থাকলে ব্রিগেডে যান’, রাস্তা আটকাতেই কুণালদের ধমক শুভেন্দুর
কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের অন্দরে লড়াই এবার সরাসরি থানার চৌকাঠে গিয়ে ঠেকল। আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ধারায় মামলা রুজু হলো হেয়ার স্ট্রিট থানায়। রবিবার দুপুরে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ব্যস্ত সময়ে রাস্তা আটকে মঞ্চের মাপজোক করার অপরাধে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই এই তিন হেভিওয়েট নেতাকে জবাবদিহি করার জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।[TECHTARANGA-POST:10414]পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ তারিখ দুপুর ২টো ৫০ থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও ধর্মতলার সংযোগস্থলের ব্যস্ততম রাস্তা আটকে একুশের জুলাইয়ের মঞ্চের জন্য ফিতে হাতে মাপজোক করছিলেন কুণাল-দোলারা। সপ্তাহের ব্যস্ত সময়ে এইভাবে রাস্তা অবরুদ্ধ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী। এই মর্মে পুলিশের কাজে বাধা ও বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে হেয়ার স্ট্রিট থানা। এই ঘটনাকে সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানান, রানী রাসমণি রোডে সভার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু ভিড়ের আশঙ্কায় রাস্তার পাশে মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কুণালদের বিঁধে শুভেন্দুর খোঁচা, “ইচ্ছে থাকলে ব্রিগেডে গিয়ে করুন না, ব্যস্ত রাস্তা আটকে কেন মাপজোক করছেন? আসলে তৃণমূলের একদল বলছে আমরাই আসল, অন্য দল বলছে আমরা ল্যাম্পপোস্ট!”অযোধ্যা রাম মন্দির ট্রাস্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় বিক্ষোভ, তদন্তের দাবিমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস’ ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালনের অনুমতি চেয়ে লালবাজারে চিঠি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নেমে পড়েছে ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। শনিবার সন্ধ্যায় ঋতব্রতপন্থীরাও শহিদ দিবস পালন করতে চেয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, ৩৩ বছর আগে যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে নিজেদের আন্দোলন দাবি করে এবার শহিদ মিনারে ২১ জুলাই পালন করতে কোমর বাঁধছে প্রদেশ কংগ্রেসও। [TECHTARANGA-POST:10399]দিনকয়েক আগে উত্তর কলকাতায় কর্মিসভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ৫ জনকে নিয়ে হলেও ধর্মতলার বুকেই একুশে জুলাই করবেন। তবে বছরের পর বছর ধরে রাস্তা বন্ধ করে এই সমাবেশ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা চলায় এমনিতেই আইনি গেরোয় ফেঁসে রয়েছে মমতা শিবির। এবার পুলিশের নোটিশের পর ধর্মতলার রাশ কার হাতে থাকবে— মমতা শিবির, ঋতব্রতপন্থী নাকি কংগ্রেস, তা নিয়েই রাজ্যজুড়ে বাড়ছে রহস্য।