মাঝ-আকাশে দাউদাউ করে জ্বলল আগুন! কলকাতা বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ তুরস্কের বিমানের
কলকাতা: মাঝ-আকাশে বড়সড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ইঞ্জিনে আগুন দেখা দেওয়ায় বুধবার দুপুরে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করল বিমানটি। পাইলটের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন ২২৫ জন যাত্রী ও বিমানের কর্মীরা।শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, নেপালের কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইস্তানবুলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিএইচওয়াই ৭২৭ ফ্লাইটটি। বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণ পরই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। চালক দেখতে পান, বিমানের একটি ইঞ্জিনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে! পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পাইলট তৎক্ষণাৎ ওই ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেন এবং নিকটবর্তী বিমানবন্দর হিসেবে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।কলকাতার আকাশে থাকাকালীন বিপত্তির খবর পাওয়ামাত্রই বিমানবন্দরে 'ফুল ইমার্জেন্সি' বা পূর্ণকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। রানওয়ের পাশে প্রস্তুত রাখা হয় একাধিক দমকলের ইঞ্জিন, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি বিভাগের কর্মীদের। দুপুর নাগাদ এটিসি-র সবুজ সঙ্কেত মেলার পর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি নিরাপদভাবে রানওয়েতে নামিয়ে আনেন পাইলট।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানে থাকা ২২৫ জন যাত্রীর প্রত্যেকেই সুরক্ষিত আছেন। অবতরণের পর যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে লাউঞ্জে নিয়ে আসা হয়। বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতির কাজ চলছে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।সূত্রের খবর, উড়ানের চার মিনিটের মধ্যেই কেন ইঞ্জিনে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি 'বার্ড হিট' (পাখির ধাক্কা)-এর কারণে ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে। এই ঘটনার জেরে কলকাতা বিমানবন্দরে কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।