ভোটের মুখে রক্তস্নাত অসম! তিনসুকিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে উলফা জঙ্গিদের গ্রেনেড বৃষ্টি, আহত ৪ কমান্ডো
অসম বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল সন্ত্রাস। শনিবার গভীর রাতে অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের তিনসুকিয়া জেলায় পুলিশ কমান্ডোদের একটি ক্যাম্প লক্ষ্য করে ভয়াবহ গ্রেনেড ও মর্টার হামলা চালাল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন উলফা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট)। এই অতর্কিত হামলায় অন্তত চার জন পুলিশ কমান্ডো গুরুতর আহত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া এলাকায় এই দুঃসাহসিক হামলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত ২টো নাগাদ তিনসুকিয়ার লেখাপানি থানার অন্তর্গত জাগুন ১০ মাইল এলাকার কমান্ডো ক্যাম্প লক্ষ্য করে একের পর এক গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করে জঙ্গিরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অন্তত ৫টি গ্রেনেড ও মর্টার শেল ছোড়া হয়। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। শুধু গ্রেনেড নয়, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ক্যাম্প লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিও চালায় হামলাকারীরা। প্রায় ২০-৩০ মিনিট ধরে চলে এই তাণ্ডব।আক্রমণের আকস্মিকতা কাটিয়ে দ্রুত পাল্টা জবাব দেয় ক্যাম্পে থাকা কমান্ডোরা। দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলে। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা পাশের ঘন জঙ্গলে গা ঢাকা দেয়। এই ঘটনায় আহত চার কমান্ডোকে দ্রুত উদ্ধার করে ডিব্রুগড় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন উলফা (আই)। তারা এই হামলার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন বুজনি’। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে অসম পুলিশের হাতে তাদের সংগঠনের সদস্যদের ওপর হওয়া ‘নির্যাতন’ এবং গত জুলাই মাসে মায়ানমার সীমান্তে ড্রোন হামলার প্রতিবাদেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।আগামী ৯ এপ্রিল অসমে বিধানসভা ভোট। তার আগে এই নাশকতা রুখতে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গোটা তিনসুকিয়া জেলা ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। দুই রাজ্যের সীমানায় নাকা চেকিং বাড়িয়ে আকাশপথেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।নির্বাচনের ঠিক মুখে আলফার এই সক্রিয়তা কি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।