Chorbagan Tragedy: টাকা দিলেই মিলছিল মণ্ডপে ঢোকার ছাড়পত্র? চোরবাগানের পদপিষ্টের নেপথ্যে এবার জোড়া ভিআইপি পাসের বিস্ফোরক তথ্য!
কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক পদপিষ্টের দুর্ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির পর এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাধারণ দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে টাকার বিনিময়ে কি বিক্রি হচ্ছিল বিশেষ ভিআইপি পাস? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই এখন তোলপাড় পুরো কলকাতা। লালবাজার ও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে চোরবাগানের পুজোয় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত দুটি আলাদা ধরনের ভিআইপি পাস, যা এই পুরো বিপর্যয়ে এক নতুন বিতর্কের মোড় এনে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে টিকিট বা পাস বিক্রি এবং মণ্ডপে ঢোকার নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ফলেই এই বিপুল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল কি না, তা এখন পুলিশি তদন্তের আতশকাঁচের নিচে।পাসগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, তার মধ্যে একটি পাস একটি নামী ই-কমার্স সংস্থার মাধ্যমে বিলি করা হচ্ছিল। ৩৯৯ টাকা মূল্যের ওই পাসে চোরবাগান সর্বজনীন সহ শহরের অন্যান্য কয়েকটি বড় পুজো মণ্ডপের নাম স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, সামনে এসেছে চোরবাগান সর্বজনীনের নিজস্ব হলোগ্রাম লাগানো বিশেষ একটি পাস। সেই পাসে পুজোর নাম, থিম এবং বিধান সরণি দিয়ে প্রবেশের স্পষ্ট নির্দেশিকাসহ স্পনসরদের নাম ছাপা রয়েছে। যদিও চোরবাগানের এই নিজস্ব পাসে কোনও মূল্যের উল্লেখ নেই, তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মোটা টাকার বিনিময়েই গোপনে এই পাসগুলি সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:13746]সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে আসছে মণ্ডপে প্রবেশের নিয়মকে ঘিরে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে পাস ছাড়া নাকি চোরবাগানের প্রতিমা দর্শন করা যাবে না! এই বিভ্রান্তিকর ঘোষণার পরই সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভিআইপি লাইনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কি সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল? কার অনুমতিতে ই-কমার্স সংস্থার মাধ্যমে কিংবা নিজস্ব হলোগ্রাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রি করা হল? কত সংখ্যক পাস বাজারে ছাড়া হয়েছিল এবং এই অর্থ উপার্জনের পেছনে পুজো কমিটির কারা যুক্ত ছিলেন, বাজেয়াপ্ত হওয়া পাসগুলি খতিয়ে দেখে এখন সেই সব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে কলকাতা পুলিশ।