মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নির্দেশে ডিলিমিটেশনের প্রস্তুতি, ১৪৪ থেকে বেড়ে হতে পারে প্রায় ২০০ ওয়ার্ড
কলকাতা পুরভোটের আগে বড়সড় প্রশাসনিক বদলের পথে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নখাতে মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমপরিমাণ আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ওয়ার্ড সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের প্রস্তুতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রাথমিক খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10633]খসড়ার প্রস্তাব মেনে ডিলিমিটেশনের জেরে এক ধাক্কায় ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে কমবেশি ২০০টি হতে পারে। পুরসভার বুথ ও ভোটারের পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখে এমনই প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। লক্ষ্য, প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ও বুথের সংখ্যা যতটা সম্ভব সমান রাখা। সেই কারণে ওয়ার্ডপিছু গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি বুথ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার অধীনে মোট প্রায় ৪,৮০০টি বুথ রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ১,৮৩৫টি বুথ, কলকাতা দক্ষিণে প্রায় ২,০৩০টি, টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৩১০টি এবং যাদবপুর বিধানসভা এলাকায় রয়েছে প্রায় ৩৫৩টি বুথ। অন্যদিকে, মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার অন্তর্গত ১৩৬ থেকে ১৪১ নম্বর ওয়ার্ড কলকাতা পুরসভার আওতায় থাকলেও তা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত।[TECHTARANGA-POST:10632]পুরসভার পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম, আবার কিছু ওয়ার্ডে ৫০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছেন। যেমন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার মাত্র প্রায় ৯ হাজার, অন্যদিকে ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। একইভাবে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে যথাক্রমে ৫৮ ও ৫৯টি বুথ। দক্ষিণ কলকাতার ৬৬, ৮১, ৯৩ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডেও বুথের সংখ্যা প্রায় ৬০-এর কাছাকাছি। অথচ সব কাউন্সিলরই সমপরিমাণ কাউন্সিলর ফান্ড পান। ফলে বড় ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, একই বরাদ্দে অনেক বেশি মানুষের নাগরিক পরিষেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:10630]রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫০টির বেশি বুথ রয়েছে এমন ওয়ার্ডগুলিকে ভেঙে ছোট করা হবে। আবার উত্তর কলকাতার কয়েকটি ছোট ওয়ার্ড একত্রিত করে নতুন ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে উত্তর কলকাতায় কিছু ওয়ার্ডের সংখ্যা কমলেও দক্ষিণ কলকাতা, টালিগঞ্জ ও যাদবপুর এলাকায় নতুন ওয়ার্ড এবং কাউন্সিলরের সংখ্যা বাড়তে পারে। নবান্নের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই ওয়ার্ডপিছু বুথের সংখ্যা নির্ধারণ করে চলতি মাসের শেষের দিকে ডিলিমিটেশনের খসড়া প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর নিয়ম মেনে সর্বদলীয় বৈঠক, খসড়া প্রকাশ, জনমত গ্রহণ এবং আপত্তি নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত সীমানা ঘোষণা করা হবে।